পাঁচ বছর পর ফের খুলল পুরনো একটি ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলা। ২০২১ সালের ঘটনায় নিহত বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাসের দেহ রবিবার সমাধি থেকে তোলা হল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। এবার দেহের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় আস্তিকচন্দ্র দাসকে মারধর করে খুন করা হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। পরে বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে সহযোগিতা মেলেনি। এমনকি ময়নাতদন্তও করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক চাপ ও ভয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত দেহ সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।
আস্তিকচন্দ্র দাসের বাড়ি সন্দেশখালি-১ ব্লকের ন্যাজাট থানার কালীনগর অঞ্চলের ঝনঝনিয়া এলাকায়। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সমাধি থেকে দেহ তোলার সিদ্ধান্ত হয়।
রবিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ আধিকারিক, চিকিৎসক এবং ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় সমাধি খুঁড়ে দেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া।
সন্ধ্যার পর মাটি খুঁড়ে দেহাংশ উদ্ধার করে কফিনবন্দি করা হয়। এরপর নদীপথে তা ন্যাজাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে তদন্তকারীরা।
পাঁচ বছর আগের এই ঘটনায় সত্যিই কী ঘটেছিল, কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি কতটা—ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। আর সেই রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







