প্রায় পনেরো দিন কেটে গেলেও এখনও কোনও খোঁজ নেই মুকুল রায়ের পুত্রবধূ এবং শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরই নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে পরিবারের মানুষের উদ্বেগ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। নেপালে পৌঁছনোর পর একাধিকবার স্বামী শুভ্রাংশুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু ২৫ আগস্ট রাতে শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় শুভ্রাংশুর। পরদিন সকাল থেকেই হড়পা বানের জেরে নেপালের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এরপর থেকেই শর্মিষ্ঠার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। থানার পাশাপাশি ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
এমনকি নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর খবরও সামনে আসে। ফলে পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় আরও আশঙ্কা।
তবে শুভ্রাংশুর দাবি, অযথা দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁর বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠা সুস্থই রয়েছেন। তাঁর অনুমান, চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এলাকায় হয়তো আটকে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। পাশাপাশি, নিখোঁজদের নিয়ে প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে বলেও দাবি তাঁর।
এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে নিজের ফেসবুকের ডিসপ্লে পিকচারে সস্ত্রীক একটি ছবি ব্যবহার করেন শুভ্রাংশু। ছবিটি সাদা-কালো হওয়ায় তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই ছবির পিছনে আসল কারণ কী, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
শুভ্রাংশুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসও জানিয়েছেন, এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে শুভ্রাংশু কেন সাদা-কালো ছবি দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
দিন গড়াচ্ছে, কিন্তু এখনও অধরা শর্মিষ্ঠার সন্ধান। পরিবারের অপেক্ষা—কবে আসবে সেই স্বস্তির খবর?
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







