মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা ঘিরে তৈরি হয় বিস্ময় আর নানা প্রশ্ন। ঠিক তেমনই এক ঘটনা নিয়ে গত তিন দিন ধরে চর্চায় মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য সরানো হবে ১৭০ বছরের পুরনো একটি হনুমান মন্দির। মন্দিরের কাঠামো সরানো গেলেও, বিপত্তি দেখা দিয়েছে বিশাল হনুমান মূর্তিকে ঘিরে।
উজ্জয়িনীর ট্যাঙ্কি চকে খাড়ে হনুমান মন্দিরের পুরনো কাঠামো ভাঙার পর মূর্তিটি সরানোর কাজ শুরু করেন পৌরনিগমের কর্মীরা। ব্যবহার করা হয় জেসিবি-সহ একাধিক ভারী সরঞ্জাম। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও মূর্তিটিকে নাকি একচুলও সরানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত তিন দিনে মোট চারবার মূর্তিটি সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসনের প্রচেষ্টা। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও কেন সরানো যাচ্ছে না মূর্তিটি?
পরিস্থিতি দেখে আপাতত নতুন করে পরিকল্পনা করছে পৌরনিগম। মূর্তির আশপাশের ভেঙে দেওয়া কাঠামো খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কীভাবে মূর্তিটিকে কোনও ক্ষতি না করে নিরাপদে অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। সবদিক বিচার করে ফের অর্থাৎ পঞ্চমবার মূর্তি সরানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে প্রশাসনের এই যুক্তি কিংবা প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় ভক্তদের একাংশ। তাঁদের বিশ্বাস, ১৭০ বছর ধরে এই স্থানেই রয়েছেন বজরংবলী। তাই তাঁর ‘অনিচ্ছা’র কারণেই বারবার ব্যর্থ হচ্ছে মূর্তি সরানোর চেষ্টা।
ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে পড়ায় উজ্জয়িনীতে তৈরি হয়েছে আরও কৌতূহল। একদিকে প্রশাসনের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা ও নিরাপদে স্থানান্তরের পরিকল্পনা, অন্যদিকে ভক্তদের অটুট বিশ্বাস—দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন পঞ্চম প্রচেষ্টার দিকেই তাকিয়ে সকলে।
শেষ পর্যন্ত পঞ্চমবারের চেষ্টায় কি সরানো সম্ভব হবে ১৭০ বছরের পুরনো সেই হনুমান মূর্তি? নাকি ফের ব্যর্থ হবে প্রশাসন? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে উজ্জয়িনী।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







