পুজোর আগে খাবারের গুণমান নিয়ে বড়সড় অভিযান। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পচা খাবার এবং নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে একের পর এক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানের পর এবার কলকাতা পুরসভার কাছেও জমা পড়ল তালিকা। প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রায় ৫০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা।
ছোট দোকান থেকে নামী রেস্তোরাঁ—খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নজরদারি থেকে বাদ পড়ছে না কেউই। কোথাও উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস, কোথাও খাবারে মেশানোর অভিযোগ উঠেছে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং। পুজোর মরশুমে খাবারের চাহিদা বাড়ার আগেই তাই এবার কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানের পর একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও লাইসেন্স বাতিল, আবার কোথাও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পৌঁছেছে কলকাতা পুরসভায়।
তালিকায় রয়েছে নাগেরবাজারের আরসালান, বাইপাসের ধারের সিমলা বিরিয়ানি, রিপন স্ট্রিটের করিমস এবং কলকাতা পুরনিগমের কাছে নিজামের মতো একাধিক পরিচিত রেস্তোরাঁর নাম। এর আগেও বারবিকিউ নেশন, চিনা পাড়ার বিগ বস-সহ বেশ কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
তালিকায় রয়েছে বলরাম মল্লিক রাধারমণ মল্লিকের মিষ্টির দোকানের নামও।
পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ৪০টি সংস্থাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নিয়ম মেনে ফের আবেদন করলে তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে।
অভিযানের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট বড়। এখনও পর্যন্ত ৫৯২টি জায়গায় পরিদর্শন, প্রায় ১,২২৪ কেজি খাবার নষ্ট এবং ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজলকৃষ্ণ বণিকও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এতদিন ধরে মানুষ কী ধরনের খাবার খেয়ে আসছিলেন, তা ভেবেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। অবশেষে প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুজোর আগে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশাসনের এই অভিযান কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। কারণ উৎসবের আনন্দের সঙ্গে আপস করা যাবে না স্বাস্থ্য নিয়ে—খাবারে গাফিলতি ধরা পড়লে এবার যে কড়া পদক্ষেপ হবে, সেই বার্তাই স্পষ্ট।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







