কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য—ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি বহনকারী এই বিশাল সৌধ আজও শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এর প্রতিটি দেওয়াল, প্রতিটি গ্যালারি যেন সাক্ষী কলকাতার ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের।
রানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন। ১৯০১ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে একটি বিশাল স্মৃতিসৌধ তৈরির প্রস্তাব দেন কার্জন। ১৯০৬ সালের ৪ জানুয়ারি স্থাপিত হয় সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর। দীর্ঘ নির্মাণপর্বের পর ১৯২১ সালে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।
সৌধ নির্মাণের দায়িত্বে ছিল মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি। স্থাপত্যের দিক থেকেও এটি অসাধারণ। ইতালীয় রেনেসাঁর প্রভাবের সঙ্গে ভারতীয় বা ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীর মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এই অনন্য স্থাপত্য।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল রাজস্থানের মকরানা থেকে আনা সাদা মার্বেল পাথর। আর সৌধের চূড়ায় রয়েছে ব্রোঞ্জের ‘অ্যাঞ্জেল অব ভিক্টরি’ বা বিজয়দূতের মূর্তি, যা বাতাসের সঙ্গে ঘোরে—এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
তবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের গুরুত্ব শুধু তার স্থাপত্যে নয়। এর ভিতরে রয়েছে ইতিহাসের বিশাল ভাণ্ডার। বর্তমানে এখানে প্রায় ২৫টি পৃথক গ্যালারি রয়েছে। রানি ভিক্টোরিয়ার ব্যবহৃত সামগ্রী, ঐতিহাসিক দলিল, তৈলচিত্র এবং বহু দুর্লভ নিদর্শন সেখানে সংরক্ষিত।
এখানে রয়েছে ড্যানিয়েল দম্পতির আঁকা ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম, শেক্সপিয়রের দুর্লভ সংস্করণ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে সম্পর্কিত নানা স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী।
অর্থাৎ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল শুধু একটি স্থাপত্য নয়—এ যেন পাথর, মার্বেল আর শিল্পকর্মের মধ্যে লেখা কলকাতার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
আজও শহরের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই সৌধ অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করে চলেছে। ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি থেকে স্বাধীন ভারতের ইতিহাস—সব মিলিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল কলকাতার ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







