best news portal development company in india

ভারত, চিন-সহ কোনও বিদেশি শক্তির সাহায্য নেবে না নেপাল—কেন এমন সিদ্ধান্ত কাঠমান্ডুর?

SHARE:

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কার্যত তছনছ নেপাল। শত শত মানুষের মৃত্যু, নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হড়পা বান ও ধসে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এমন দুর্যোগের মধ্যেই নেপাল সরকারের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ-সহ একাধিক দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও আপাতত কোনও বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিতে রাজি নয় কাঠমান্ডু।

শুক্রবার নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক। তবে বর্তমানে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ চালাচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই বলেই সরকারের সিদ্ধান্ত।

তবে উদ্ধারকারী দলের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করলেও মানবিক সাহায্য গ্রহণে আপত্তি নেই নেপালের। ইতিমধ্যেই ভারত বিপর্যস্ত নেপালের জন্য বিপুল পরিমাণ মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ত্রাণ বা মানবিক সহযোগিতা গ্রহণ করলেও উদ্ধারকাজে বিদেশি বাহিনীকে কেন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে বিপর্যয়ের কেন্দ্র রসুয়া জেলা তিব্বত সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, ওই অঞ্চল সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিদেশি উদ্ধারকারী দল সেখানে গেলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, সামরিক পরিকাঠামো বা গতিবিধি নিয়ে নানা তথ্য বাইরের দুনিয়ার নজরে চলে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো কাঠমান্ডু সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

প্রাক্তন নেপালি রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভট্টরাইয়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে রসুয়া জেলার এই স্পর্শকাতর অবস্থানের কথা। তাঁর মতে, তিব্বত সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, নেপালের এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই নিরাপত্তাজনিত কারণে, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও কূটনৈতিক সমীকরণ? কেউ কেউ এর সঙ্গে চিনের সম্ভাব্য চাপের যোগসূত্রও দেখছেন। যদিও নেপালের বিদেশ মন্ত্রক এমন কোনও চাপের দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও নেপালের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত। একদিকে উদ্ধারকাজে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন, অন্যদিকে তিব্বত সীমান্তের স্পর্শকাতরতা—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কাঠমান্ডু, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *