পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। এবার সেই সম্ভাব্য জোটে বাংলাদেশও যোগ দিতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্যে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সংসদে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের চুক্তি যদি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে সেটিকে মুসলিম দেশগুলির পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলির মধ্যে কোনও নিরাপত্তা চুক্তি তৈরি হলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। ফলে ঢাকা যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী, সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ এই ধরনের কোনও জোটে যোগ দিলে তার প্রভাব ভারতের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর কতটা পড়বে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নয়াদিল্লি কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গত কয়েক বছরে নানা কারণে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও, ঢাকার তরফে সেই সফর নিয়ে এখনও বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন নিরাপত্তা সমীকরণে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত যোগ দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







