স্বামী সাংসদ, স্ত্রী বিধায়ক। তৃণমূলের ভাঙনের আবহে দু’জন এখন দুই রাজনৈতিক শিবিরে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে যোগ দিয়েছেন NCPI-তে। অন্যদিকে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন তৃণমূলেই। মঙ্গলবার কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবস উপলক্ষে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক।
মঞ্চ থেকে নেমে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই ওঠে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রশ্ন। আর তাতেই স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন নয়না। রাগত স্বরেই তিনি বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব আমি নিয়ে বসে নেই। ঠিক আছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করতে হলে দিল্লি চলো। দিল্লিতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। আমি তাঁর দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই।” তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট, সুদীপকে নিয়ে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি একেবারেই রাজি নন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নয়নাকেও বিভিন্ন মহলে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি, দলের অন্দরেও তাঁকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। তাঁর উপস্থিতিতেই একাধিক তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন।
সোমবার শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেও কলকাতা উত্তরের সাংসদকে নিশানা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ তাঁকে ‘পরচুলা সুদীপ’ বলেও কটাক্ষ করেন। এর আগেও সুদীপ তৃণমূল ছাড়ার পর কুণাল বলেছিলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। শুধু ওমন একজন পরচুলওয়ালা লোক নয়, তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে। ফলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি।”
রাজনীতির কারবারিদের একাংশের ধারণা, তৃণমূলে থেকেই সুদীপকে নিয়ে লাগাতার কটাক্ষের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায়, এখন তাঁর সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতেই চাইছেন না চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







