কলকাতা, ১৬ জুলাই ২০২৬: প্রেমিকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আর সেই দুঃখ ভোলার আগেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো বন্ধুদের অনবরত ঠাট্টা-তামাশা ও ব্যঙ্গবিদ্রুপ। অভিমানে ও রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে খাস শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের ছাদে চড়ে বসলেন এক যুবক। চিৎকার করে দাবি তুললেন, প্রেমিকাকে ফিরিয়ে না দিলে ওভারহেড হাই-ভোল্টেজ তার ছুঁয়ে আত্মহত্যা করবেন! মঙ্গলবার শিয়ালদহ স্টেশনের এই অভূতপূর্ব ও রোমহর্ষক কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে তুমুল আতঙ্ক ও হুলস্থুল পড়ে যায়।
“কাউকে চাই না, আমার প্রেমিকাকে এনে দাও!”
মঙ্গলবার শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিউ জলপাইগুড়ি/আলিপুরদুয়ারগামী আপ পদাতিক এক্সপ্রেস (Padatik Express) এসে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে এই বিপত্তি। যাত্রীরা হঠাৎ খেয়াল করেন, এক যুবক ট্রেনের বগির ফাঁক দিয়ে তরতরিয়ে একেবারে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছেন। ২৫ হাজার ভোল্টের ওভারহেড লাইনের ঠিক নিচে যুবককে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্ল্যাটফর্ম জুড়ে যাত্রীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন।
যুবকের এই কাণ্ড দেখে আরপিএফ (RPF) জওয়ান ও রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। জওয়ানরা নিচে দাঁড়িয়ে তাঁকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে নামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু যুবক ছিলেন নাছোড়বান্দা। ট্রেনের ছাদ থেকেই তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন:
“আমি কারও কোনও কথা শুনব না! যে বন্ধুরা আমায় নিয়ে ঠাট্টা করছে, সেই বন্ধুদের আমার সামনে এনে কান ধরে ওঠবোস করাও। আর আমার প্রেমিকাকে এখনই আমার কাছে ফিরিয়ে এনে দাও। যদি তোমরা তা না পারো, তবে আমি এখনই এই ওপরের বিদ্যুতের তার ছুঁয়ে মরব!”
আরপিএফ-এর ১০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অপারেশন
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে কালবিলম্ব না করে আরপিএফ জওয়ানরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনের দু’দিক থেকে ছাদে উঠতে শুরু করেন। যুবক যাতে উত্তেজিত হয়ে বিদ্যুতের তারের দিকে হাত না বাড়িয়ে ফেলেন, তার জন্য একদল জওয়ান তাঁর নজর ঘোরানোর চেষ্টা করেন এবং অন্যদল পিছন থেকে গিয়ে তাঁকে জাপটে ধরেন। প্রায় ১০ মিনিটের এক রুদ্ধশ্বাস ও টানটান স্নায়ুযুদ্ধের পর আরপিএফ জওয়ানরা ওই যুবককে অক্ষত অবস্থায় ছাদ থেকে নামিয়ে আনতে সফল হন।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই যুবক আদতে অসমের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ব্রেক-আপের পর থেকেই ওই যুবক তীব্র মানসিক অবসাদে (Depression) ভুগছিলেন এবং বন্ধুদের ঠাট্টায় তাঁর মানসিক ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হয়। এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামার জেরে শিয়ালদহ স্টেশনে বেশ কিছুক্ষণের জন্য পদাতিক এক্সপ্রেসের যাত্রার সময় পিছিয়ে যায় এবং ট্রেনটিকে ঘিরে কৌতূহলী যাত্রীদের ভিড় জমে যায়। যুবকের এই কাণ্ড দেখে অনেকেই বলছেন— ‘প্রেমে পড়লে মানুষ কত কী-ই না করে, কিন্তু ট্রেনের ছাদে চড়ে ওভারহেড তার ছোঁয়ার হুমকি বোধহয় এ বঙ্গে এই প্রথম!’
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







