কলকাতা, ১৬ জুলাই ২০২৬: রাজনীতিতে যে সমীকরণ কতটা দ্রুত বদলে যেতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল তিলোত্তমার বুকে। তিহার জেল থেকে মুক্তির পর যাঁকে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরের সম্মানে বরণ করে নিতে চেয়েছিলেন, সেই বিশ্বস্ত ‘কেষ্ট’ এখন কালীঘাট শিবিরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের জেলা সভাপতিদের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে সশরীরে হাজির হয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ক্ষোভ উগরে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।
শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজনীতির বৃত্তে ফিরে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই কোনও রাখঢাক না রেখে সোজা নবান্ন ও কালীঘাটকে নিশানা করেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা।
“অভিষেকের জন্যই আমি জেলে গিয়েছিলাম, সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিতাম”
বুধবার বিকেলের বৈঠকে যোগ দিয়ে অনুব্রত মণ্ডল তাঁর গ্রেফতারি এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তোলেন।
সাংবাদিকদের সামনে কেষ্টর বিস্ফোরক দাবি:
-
দল ধ্বংসের কারিগর: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলটাকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিয়েছে। ওর ঔদ্ধত্য এবং ভুল রাজনীতির জন্যই আজ দলের এই দশা।”
-
জেলে পাঠানোর চক্রান্ত: অনুব্রত এদিন অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, কোনো বাইরের শত্রু নয়, খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্রান্তের কারণেই তাঁকে এতদিন জেলে কাটাতে হয়েছিল।
-
রাজস্বের খতিয়ান: বীরভূমের পাথর ও বালি শিল্প থেকে শুরু করে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে তিনি প্রতি বছর রাজ্য সরকারকে কত কোটি টাকা বৈধ রাজস্ব (Revenue) পাইয়ে দিতেন, এদিন তারও খতিয়ান মনে করিয়ে দেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, দলকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করলেও পরিবর্তে তিনি পেয়েছেন কেবল বঞ্চনা।
“চোখে দেখো না, কানে দেখো!”— মমতাকে সরাসরি বেনজির তোপ
এতদিন পর্যন্ত ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি এতটা আক্রমণাত্মক হতে দেখা যায়নি অনুব্রতকে। কিন্তু বুধবার সমস্ত সৌজন্যের দেওয়াল ভেঙে তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তোপ দাগেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে অনুব্রত সোজাসুজি বলেন:
“তুমি চোখে দেখো না, কানে দেখো! চারপাশে কী ঘটে চলেছে, দলটা কীভাবে ছারখার হয়ে গেল, তা তুমি দেখতে পাচ্ছ না। অন্যের কথায় কান দিয়ে তুমি নিজের অন্ধত্ব প্রমাণ করছ।”
একুশের পাল্টা সমাবেশের দায়িত্বে বীরভূমের ‘কেষ্ট’
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঋতব্রত শিবিরের আগের বৈঠকগুলিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, বুধবারের এই মেগা স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে অনুব্রতর উপস্থিতি বিক্ষুব্ধ শিবিরের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৈঠক সূত্রের খবর:
-
জেলা সভাপতিদের কড়া নির্দেশ: আগামী একুশে জুলাই কলকাতার বুকে ঋতব্রত-অরূপ রায়দের পাল্টা ‘শহিদ দিবস’ কর্মসূচি সফল করতে জেলা সভাপতিদের কী কী কর্তব্য, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে দিয়েছেন অনুব্রত।
-
তপসিয়া থেকে লড়াকু বার্তা: বিধানসভা থেকে সোজা তপসিয়ার দলীয় কার্যালয়ে এসে যেভাবে অনুব্রত মণ্ডল ও মদন মিত্র যৌথভাবে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী একুশে জুলাইয়ের পাল্টা মঞ্চ থেকে মমতা-অভিষেক জুটির বিরুদ্ধে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে এই শিবির।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







