best news portal development company in india

খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা? অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ৬ জুনের ‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকের দিকে চাতক নজর মমতার

SHARE:

‘যখন নিজের হাতে বিপুল সংখ্যায় বিধায়ক ও সাংসদ থাকে, তখন জোট শরিকদের দিকে ফিরে তাকানোরও সময় পান না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আজ ক্ষমতা হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অসহায়।’ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের নজিরবিহীন পতনের পর রাজনৈতিক মহলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এখন এই চর্চায় তুঙ্গে। রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে চ্যুত হয়ে এবং খাস কলকাতায় খোদ পুরসভার অন্দরে দলের ভাঙন রুখতে ব্যর্থ হয়ে, এবার নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ফের দিল্লির ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের দিকেই ঝুঁকতে শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আগামী ৬ জুন দিল্লিতে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলির এক অত্যন্ত জরুরি ও মেগা বৈঠক। আর সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের আগেই বৃহস্পতিবার রাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বললেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ফোনের ওপার থেকে রাহুল গান্ধী স্বয়ং মমতাকে আগামী সপ্তাহের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। দিল্লির রাজনীতির অলিন্দে গুঞ্জন, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক মহলে নিজের জমি ও প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার আর জোটে ‘একলা চলো’ নীতিতে না হেঁটে সশরীরে এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন।

ছাব্বিশের নির্বাচনে চূর্ণ বিরোধীদের একাধিক দুর্গ:

আসন্ন ৬ জুনের এই বৈঠকটি বিরোধী দলগুলির কাছে স্রেফ বিজেপি বিরোধী মঞ্চ নয়, বরং আঞ্চলিক স্তরে নিজেদের মুছে যাওয়া রাজনৈতিক অস্তিত্বকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার এক মরণপণ লড়াই। কারণ, সদ্য সমাপ্ত রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে:

  • বাংলায় ঘাসফুল চূর্ণ: দেড় দশকের শাসনকাল হারিয়ে বাংলায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।

  • কেরলে বাম দুর্গের পতন: দক্ষিণ ভারতের শেষ বাম দুর্গ কেরলেও চূর্ণ হয়েছে এলডিএফ (LDF) সরকার, সেখানেও ফুটেছে পদ্ম।

  • তামিলনাড়ুতে নয়া সমীকরণ: তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনেও স্ট্যালিনের ডিএমকে (DMK) সরকারকে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন অভিনেতা তথা টিভিকের (TVK) প্রধান বিজয়।

ভাঙনের মুখে জোট, রাহুলের ‘অগ্নিপরীক্ষা’:

বৈঠকের আগেই অবশ্য ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে ফাটল ও তীব্র অসন্তোষের ছবিটা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি বাড়িয়েছে কংগ্রেস শিবিরের। তামিলনাড়ুতে লোকসভা স্তরে কংগ্রেস ও ডিএমকে একসাথে লড়াই করলেও, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই ভোল বদলেছে হাত শিবির। স্ট্যালিনের ভরাডুবি দেখে তামিলনাড়ু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাতারাতি ডিএমকে-র হাত ছেড়ে রাজ্যের নতুন শাসকদল তথা বিজয়ের ‘টিভিকে’ (TVK)-র দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়ে দক্ষিণের রাজনীতিতে ডিএমকে ও কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের প্রবল অনুমান, এই অপমানের পর স্ট্যালিনের দল আর কোনওভাবেই ইন্ডিয়া জোটে থাকতে চাইবে না।

এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই রাহুল গান্ধীর কাছে ৬ জুনের বৈঠকটি জোটের চূড়ান্ত পতন ঠেকানোর এক কঠিন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হতে চলেছে। একদিকে যখন তামিলনাড়ু হাতছাড়া হওয়ার মুখে, তখন বাংলায় বিজেপির একচেটিয়া উত্থান রুখতে এবং জাতীয় স্তরে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটে ফিরিয়ে আনা রাহুল গান্ধীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ‘৩ডি’ অ্যাকশন প্ল্যান এবং একের পর এক পুরবোর্ড পতনের সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে, দিল্লির বুকে কংগ্রেসের হাত ধরে কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও রাজনৈতিক রক্ষাকবচ পাওয়া যায় কি না, এখন সেটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে আগামী ৬ জুনের দিল্লির বৈঠক যে দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *