‘জনগণনা ২০২৭’ নিয়ে প্রশাসনিক গেজেট নোটিফিকেশন জারির পর এবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনার সময়সূচি (Timeline) ঘোষণা করার পাশাপাশি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, গত ১ বছর ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ করতে দেয়নি আগের সরকার। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা আসা সত্ত্বেও তৎকালীন আমলারা ফাইলের ওপর চেপে বসেছিলেন বলে দাবি তাঁর। একইসঙ্গে কড়া নজরদারির চোটে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা যেভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পালাচ্ছেন, এদিন সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেন্সাস অপারেশনের ডিরেক্টর রেশমি কমল। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত বছরের জুন মাসেই দেশজুড়ে জনগণনা সংক্রান্ত মূল বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু বাংলায় দীর্ঘ টালবাহানার পর বর্তমান রাজ্য সরকারের সদিচ্ছায় গত ১১ মে এই সংক্রান্ত রাজ্য গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দেশের অন্যান্য রাজ্য এই প্রক্রিয়ায় অনেকখানি এগিয়ে গেলেও বাংলা পিছিয়ে থাকায়, এবার অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই জাতীয় কর্মসূচি শেষ করতে হবে শুভেন্দু সরকারকে।
‘১ অগস্ট’ থেকে শুরু মেগা ডিজিটাল সেন্সাস:
নবান্ন থেকে প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবারের জনগণনা মূলত দুটি পৃথক দফায় সম্পন্ন হবে। যার মধ্যে প্রথম দফার রূপরেখা এদিন স্পষ্ট করা হয়েছে:
-
প্রথম দফা (HLO): ১ অগস্ট থেকে শুরু হবে প্রথম দফার ‘হাউসলিস্টিং এবং হাউজিং সেন্সাস অপারেশন’ (House Listing & Housing Census)।
-
সেল্ফ এনিউমারেশন (১ – ১৫ অগস্ট): ভারতের ইতিহাসের প্রথমবার সাধারণ নাগরিকরা নিজে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য আপলোড বা ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’-এর সুযোগ পাবেন। আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত এই পোর্টাল খোলা থাকবে।
-
বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা (১৬ অগস্ট – ১৪ সেপ্টেম্বর): যে সমস্ত পরিবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করবেন না, আগামী ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারীরা (Enumerators) সরাসরি তাঁদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবেন।
৩৩টি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে নাগরিকদের:
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার এই গৃহ সমীক্ষায় তথ্য সংগ্রাহকরা প্রতিটি পরিবারের কাছে গিয়ে তাঁদের আর্থিক অবস্থা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, জীবনযাত্রার মান এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত মোট ৩৩টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবেন, যা ডিজিটাল ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনেই নথিভুক্ত করা হবে। এর পরবর্তী দ্বিতীয় দফায় ‘পপুলেশন এনিউমারেশন’ (Population Enumeration) বা মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হবে, যার সময়সূচি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চিঠি চাপা দেওয়া হয়েছিল”:
বিগত জমানার তীব্র সমালোচনা করে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“বিগত সরকারের কাছে জনগণনা শুরু করার জন্য কেন্দ্রের নোটিফিকেশন অনেক আগেই এসেছিল। আমি এই জাতীয় ও সংবেদনশীল ইস্যুটিকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, কেন্দ্রের চিঠির কোনও উত্তরই দেয়নি আগের সরকার। আগের চিফ সেক্রেটারি (মুখ্যসচিব) এই জনস্বার্থবাহী কাজ শুরু না করে স্রেফ রাজনৈতিক মতামতের অপেক্ষায় ফাইল আটকে বসেছিলেন। বর্তমান রাজ্যপাল নোটিফিকেশন জারি করার পর কাজ এগোচ্ছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্য আমাদের থেকে এগিয়ে রয়েছে, তাই আমাদের খুব কম সময়ের মধ্যে এই বিশাল কাজটা শেষ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালের দীর্ঘ জট কাটিয়ে বাংলায় ১ অগস্ট থেকে এই মেগা সেন্সাস চালু করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এর মাধ্যমে যেমন রাজ্যের প্রকৃত জনসংখ্যা ও অনুপ্রবেশকারীদের সঠিক ডেটাবেস তৈরি করা সম্ভব হবে, ঠিক তেমনই এই বিপুল ডিজিটাল পরিকাঠামো ছাব্বিশের নতুন সরকারের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেও একধাপ এগিয়ে দেবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







