best news portal development company in india

শিশুদের টিকাকরণ না হলে মিলবে না ৩ হাজার টাকা, খারিজি মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রা পলের

SHARE:

‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি শুরু হতেই এবার উপভোক্তাদের জন্য একগুচ্ছ কড়া শর্ত আরোপ করল নতুন বিজেপি সরকার। ১২ পাতার এই মেগা ফর্মের বিভিন্ন কলাম ও তথ্য চাওয়া নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই নবান্ন থেকে এক বিস্ফোরক ও কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের নারী, শিশু ও মহিলা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনে পরিবারের শিশুদের সঠিক সময়ে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন না করানো হলে মায়েরা অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩,০০০ টাকার আর্থিক ভাতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন। অর্থাৎ, ‘নো টিকাকরণ, নো অন্নপূর্ণা যোজনা’।

বুধবার থেকে অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই এই প্রকল্পের ১২ পৃষ্ঠার সুদীর্ঘ আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই ফর্মে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণের পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়েছে ফর্মের ৯ নম্বর পাতাটি নিয়ে, যেখানে পরিবারের শিশুদের তথ্য এবং তাদের টিকাকরণের ‘স্ট্যাটাস’ বা খতিয়ান উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ওঠা এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল অত্যন্ত কড়া ভাষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন:

“সরকার বিনামূল্যে যে সমস্ত জীবনদায়ী ভ্যাকসিন বা টিকা দিচ্ছে, তা আপনারা আপনাদের সন্তানদের দিয়েছেন কি না, সেটা জানা আমাদের পরম কর্তব্য। যদি কেউ সন্তানদের ভ্যাকসিন না দেওয়ান, তবে বুঝতে হবে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বা নির্দেশিকা আপনার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাহলে সরকারের দেওয়া প্রতি মাসের ৩ হাজার টাকা বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাটাই বা আপনি কোন মুখে নিচ্ছেন? সরকারি নির্দেশ না মানলে এই ভাতার টাকাও মিলবে না।”

খারিজি মাদ্রাসায় পড়লে বাতিল হবে আবেদন:

টিকাকরণের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েও এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। ফর্মে শিশুরা কোন স্কুলে পড়াশোনা করছে, সেই তথ্য দেওয়াও বাধ্যতামূলক। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পল সাফ জানিয়ে দেন, কোনও আবেদনকারীর সন্তান যদি ‘খারিজি মাদ্রাসা’য় পড়াশোনা করে, তবে সেই পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না।

মন্ত্রীর যুক্তি, খারিজি মাদ্রাসাগুলি রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতর বা মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ দ্বারা অনুমোদিত নয়। যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানগুলির সরকারি কোনও স্বীকৃতি নেই, তাই সেখানে পাঠরত পড়ুয়াদের মায়েরা এই ভাতার আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।

নবান্ন সূত্রে খবর, ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে এই প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন করা হলেও, প্রতিটি ১২ পাতার ফর্ম স্ক্রুটিনি বা খতিয়ে দেখার সময় শিশুদের স্কুল ও ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করবেন পুরসভা ও ব্লকের আধিকারিকরা। সরকারের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা পেতে গেলে মহিলাদের শুধু আবেদন করলেই হবে না, বরং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *