দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি এবার উত্তরবঙ্গ এবং পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় ঘটে যাওয়া মেগা কেলেঙ্কারির শিকড়ে পৌঁছাতে বড় পদক্ষেপ নিল নতুন বিজেপি সরকার। গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) বা জিটিএ-র অধীনে পাহাড়ের স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগে যে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল, এবার সেই মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)-কে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের এই সবুজ সংকেতের পর পাহাড়ের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে আইনি জট কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ময়দানে নামছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি, যা প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং পাহাড়ের তৎকালীন শাসক জোটের হেভিওয়েট নেতাদের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
তদন্তকারী সংস্থা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পাহাড়ের স্বশাসিত সংস্থা জিটিএ-র মাধ্যমে নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, কোনও রকম পরীক্ষা বা মেধা তালিকা ছাড়াই প্রায় ৪০০-রও বেশি শূন্যপদে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে এবং সাদা কাগজে নাম লিখে পছন্দের লোকেদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার এই নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে আসতেই মামলা গড়ায় আদালতে। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই এই দুর্নীতির গভীরতা অনুধাবন করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকারের নানা প্রশাসনিক অসহযোগিতা এবং জটিল আইনি প্যাঁচে পড়ে এতদিন পাহাড়ের এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া কার্যত ফাইলবন্দি করে রাখতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নবান্নের অলিন্দে ফাইল নড়াচড়া শুরু হতেই এই মামলার গতি নাটকীয় মোড় নিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনও দুর্নীতিকেই রেয়াত করা হবে না, তা সে সমতলেই হোক বা পাহাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী এই ফাইলে সই করতেই সিবিআই-এর সামনে থেকে সমস্ত রাজ্য স্তরের আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর হয়ে গেল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জিটিএ-র এই শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির সঙ্গে পাহাড়ের একাধিক প্রভাবশালী নেতা এবং কলকাতার তৎকালীন শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি যোগসূত্র ছিল। এবার সিবিআই পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে পাহাড়ে কোমর বেঁধে নামায়, সেই সমস্ত ভুয়ো শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার রাজভবন বা জেলের দিকে যাত্রা নিশ্চিত হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







