তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, “পাপের ফলেই ধ্বংস হয়েছে তৃণমূল!” দলের ভাঙন থেকে শুরু করে প্রতীক-সংকট—সবকিছুর জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন তিনি।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি মমতা। তাঁর কথায়, দলের মধ্যে দুই, তিন, এমনকি চারটি ভাগ তৈরি হওয়ার দায়ও মমতারই। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরই ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলা এবং রামমন্দিরের উদ্বোধনের দিন মন্দিরবিরোধী মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্য, ভগবান রামচন্দ্রের অভিশাপেই তৃণমূলের এই পরিণতি। তাঁর বক্তব্য, “অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতিমানে চ কৌরবা”—অর্থাৎ দম্ভই শেষ পর্যন্ত পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না দুই শিবিরই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্য শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক।
এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াই, অন্যদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।
তবে তৃণমূলের সংকটকে ‘পাপের ফল’ বা ‘রামের অভিশাপ’ বলার বিষয়টি শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এমন কোনও ধর্মীয় কারণের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত নয়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







