‘খাম, তুমি কার?’—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে এবার এই প্রশ্নই সামনে। দীর্ঘদিনের পরিচিত নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ এবার হাতছাড়া হচ্ছে আইএসএফের। আর তা নিয়েই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
২০২১ সালে রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের পর থেকে একুশের বিধানসভা, ২০২৪-এর লোকসভা এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীকে লড়েছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। কিন্তু আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে সেই প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে। ফলে এই দুই কেন্দ্রে ‘খাম’ প্রতীকে লড়তে পারছে না আইএসএফ।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নওশাদ সিদ্দিকী। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। আইএসএফের সমর্থকদের কাছে ‘খাম’ একটি পরিচিত প্রতীক। তাই উপনির্বাচনের মুখে প্রতীক বদল হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
তবে নির্বাচন-সংক্রান্ত নিয়মের দিক থেকে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। আইএসএফ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হলেও রাজ্য বা জাতীয় দলের স্বীকৃতি না থাকায় প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট প্রতীকের নিশ্চয়তা নেই। সেই কারণে কমিশন মুক্ত প্রতীক হিসেবে ‘খাম’ অন্য দলকে বরাদ্দ করতে পারে—এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তের বক্তব্য, প্রতীক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। আর কমিশনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নতুন প্রতীক নিয়ে কতটা দ্রুত প্রচারে নামতে পারবে আইএসএফ? আর নওশাদ সিদ্দিকীর আইনি পদক্ষেপ কি কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও বদল আনবে? উপনির্বাচনের আগে এই প্রতীক-বিতর্কে নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







