তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে হাজির হয় মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী—দুই শিবিরই। বৈঠক শেষে কমিশনের বাইরে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কল্যাণের বক্তব্য, দলের জন্মদাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের প্রশ্নটি প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলে দলের মূল পরিচয় ও ঐতিহ্যের প্রশ্নে সেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পার্টির জনক হয়ে উঠলেন?”
তৃণমূল সাংসদের আরও দাবি, বর্তমানে কাগজে-কলমে দলের অধিকাংশ সাংসদ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি বলেন, “২৮ জন সাংসদ আমাদের সঙ্গে আছেন। ওদের হাতে একজন সাংসদও নেই। শুধু বিধায়ক থাকলেই হবে না, কাউন্সিলর বা অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।”
শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কল্যাণ। তাঁর প্রস্তাব, প্রয়োজনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসমর্থনের পরীক্ষা করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, তাতে কোন শিবিরের সঙ্গে কত মানুষ রয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নথি এবং যুক্তি কমিশনের সামনে পেশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। প্রতীক নিয়ে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে। আমরা আশাবাদী, রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।”
প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে দুই শিবিরের এই টানাপোড়েন এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। উপনির্বাচনের আগে এই প্রতীক-লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







