দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এবার বড় সিদ্ধান্ত হাসিনাকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অধিকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তাঁকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সেই অভিযোগ ঘিরে তদন্তও শুরু হয়।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ, শেখ হাসিনার প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শীর্ষ পদে পৌঁছেছিলেন সায়মা। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ ওঠে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন হাসিনাকন্যা।
সায়মার সঙ্গে যুক্ত ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ নিয়েও অভিযোগ সামনে আসে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি, ওই সংস্থার জন্য বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন সায়মা। তবে এই অভিযোগেরও কোনও ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর পাশাপাশি, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এবং চিন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আলোচনায় আসে। জমি সংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছিল বাংলাদেশের মাটিতে। অভিযোগ ছিল, তিনি প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করেছিলেন।
যদিও জমি সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে সায়মার দাবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমির মালিকানা পেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের জন্য WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান সায়মা ওয়াজেদ। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতে থাকে।
আর এবার সেই পদ থেকেই তাঁর ইস্তফার খবর সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের চাপেই কি সরে দাঁড়ালেন সায়মা? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকে ঘিরে যে তদন্ত ও অভিযোগের পর্ব শুরু হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ইস্তফা সেই বিতর্ককে আরও একবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







