best news portal development company in india

বিচিত্র রূপ ও বস্তুর মধ্যে মহাদেবের সন্ধান

SHARE:

মহাদেব—দেবাদিদেব, মহেশ্বর, ভোলানাথ। হিন্দু পুরাণে তিনি একইসঙ্গে সৃষ্টি, সংহার, ধ্যান ও বৈরাগ্যের প্রতীক। তাঁর রূপের প্রতিটি উপাদানের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আলাদা অর্থ ও পৌরাণিক তাৎপর্য। জটায় গঙ্গা থেকে গলায় নাগ, কপালে চন্দ্র থেকে গলায় রুদ্রাক্ষ—মহাদেবের প্রতিটি প্রতীক যেন এক একটি গভীর বার্তা বহন করে।

গঙ্গা

মহাদেবের জটার সঙ্গে সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকগুলির একটি হল দেবী গঙ্গা। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভগীরথের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গা যখন স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নামতে রাজি হন, তখন তাঁর প্রবল স্রোতে পৃথিবী প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই সময় মহাদেব নিজের জটায় গঙ্গাকে ধারণ করেন। পরে তাঁর জটা থেকে ধীর গতিতে গঙ্গার ধারা পৃথিবীতে প্রবাহিত হয়। তাই শিবের জটা থেকে গঙ্গার নির্গমনকে নিয়ন্ত্রণ, করুণা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

জটা

মহাদেবের জটাধারী রূপ তাঁর বৈরাগ্য ও তপস্যার প্রতীক। সাধারণ জীবনযাপন এবং সংসারিক মোহ থেকে দূরে থাকার ভাবনাও এই জটার সঙ্গে যুক্ত। তাই ‘জটাধারী’ মহাদেবকে একদিকে যেমন ত্যাগের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তেমনই প্রকৃতি ও জীবনের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথাও উঠে আসে।

শশীশেখর

মহাদেবের কপালে অর্ধচন্দ্র থাকার কারণে তাঁর আরেক নাম ‘শশীশেখর’। চন্দ্রকে সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। শিবের মস্তকে চন্দ্রের অবস্থান যেন সময়ের ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থানকেই প্রকাশ করে। পৌরাণিক কাহিনিতে চন্দ্রের সঙ্গে জড়িত নানা আখ্যানও এই প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত।

নাগ

মহাদেবের গলায় জড়িয়ে থাকা নাগও তাঁর অন্যতম পরিচিত প্রতীক। সাপকে ভয়, শক্তি, মৃত্যু এবং অহংকারের মতো বিভিন্ন ধারণার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। মহাদেবের গলায় নাগের অবস্থান সেই ভয় ও অহংকারের উপর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।

বাঘছাল

বাঘছাল মহাদেবের বৈরাগ্য ও সরল জীবনযাপনের প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনিতে বাঘের সঙ্গে যুক্ত অহংকার ও হিংস্রতার উপর শিবের নিয়ন্ত্রণের কথাও উঠে আসে। তাই বাঘছালে আসীন মহাদেবের রূপ শক্তি ও সংযম—দুইয়েরই প্রতীক।

রুদ্রাক্ষ

মহাদেবের গলায়, হাতে কিংবা জটায় দেখা যায় রুদ্রাক্ষের মালা। শৈব ঐতিহ্যে রুদ্রাক্ষকে সাধনা, ধ্যান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। রুদ্রাক্ষ ধারণকে মনঃসংযম ও শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

অর্থাৎ, মহাদেবের রূপ শুধু একটি দেবমূর্তি নয়—তাঁর প্রতিটি প্রতীক বহন করে আলাদা দর্শন। গঙ্গা থেকে সংযম, চন্দ্র থেকে সময়, নাগ থেকে অহংকার নিয়ন্ত্রণ, বাঘছাল থেকে বৈরাগ্য আর রুদ্রাক্ষ থেকে সাধনা—বিচিত্র রূপ ও বস্তুর মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *