নিউমার্কেটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষকে উদ্ধারের পর ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলটি আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের সমস্ত বাণিজ্যিক আবাসন ও জনবহুল জায়গার অগ্নিনিরাপত্তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, শিখা ইন হোটেলের ক্ষেত্রে পুরসভার নজরদারিতে ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কাছ থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। ঠিক কোথায় এবং কী ধরনের ত্রুটি ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিতে কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স বিভাগ, কেএমডিএ, কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসসির প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে কলকাতার ১৬টি বরোর অধীনে থাকা বাণিজ্যিক আবাসনগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং লাইসেন্সের বৈধতা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে।
শুধু হোটেল নয়, শহরের বিভিন্ন মার্কেট, জনবহুল এলাকা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করবে এই কমিটি। এক মাসের মধ্যে পুরো রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও ফায়ার অডিট সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছেন।
বুধবার ভোররাতে শিখা ইন হোটেল থেকে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে এসি সংক্রান্ত কোনও ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার পর শহরের হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তের পাশাপাশি কলকাতাজুড়ে শুরু হতে চলেছে বড়সড় অগ্নিনিরাপত্তা পর্যালোচনা।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







