অন্যান্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে এলেও পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও উদ্বেগ কাটেনি। অতিবৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে খড়গপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত। কোথাও কোথাও একতলা বাড়ি সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন বহু মানুষ। যদিও কিছু এলাকায় জল নামতে শুরু করায় সামান্য স্বস্তি ফিরেছে।
রাজ্য সেচ দফতর সূত্রে খবর, দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৩৭ হাজার ৮২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাইথন জলাধার থেকে ৬ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৩৬ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে এবং উচ্চ অববাহিকার জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ না বাড়লে দামোদর তীরবর্তী জেলাগুলির পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির আশা রয়েছে।
তবে পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও পরিস্থিতি যথেষ্ট সংকটজনক। অতিবৃষ্টির জেরে ঘাটালে ঝুমি নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। কেলেঘাই, কপালেশ্বরী এবং সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে সবং, নারায়ণগড় ও দাঁতন-সহ খড়গপুর মহকুমার প্রায় ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। জল কিছুটা কমলেও বহু এলাকায় এখনও রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং বসতবাড়ি জলমগ্ন। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগও পুরোপুরি কাটেনি।
এই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনের পর সবংয়ের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামার কথা তাঁর। এরপর সরাসরি সবং বিডিও অফিসে গিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে জেলা শাসক, পুলিশ সুপার, বন্যাকবলিত ব্লকগুলির বিডিও, স্থানীয় বিধায়ক এবং স্বাস্থ্য ও ত্রাণ দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা। বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ এবং দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া—মূলত এই বিষয়গুলিই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







