গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে কলকাতার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত গুরুপূর্ণিমা মহোৎসব ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—দুই ক্ষেত্রেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে হিরণ্ময় গোস্বামী মহারাজের দুটি গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশও করা হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, বাংলায় যে পরিবর্তন এসেছে তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষায় সন্ত সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে তিনি ফের একবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ল্যান্ড জেহাদ, লাভ জেহাদ এবং জোর করে ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনাগুলি রুখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বক্তৃতায় শুভেন্দু অধিকারী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দ, ঋষি অরবিন্দ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “গুরু শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি আদর্শ ও বিচারধারাও হতে পারেন।” তিনি দাবি করেন, বাংলার সমাজজীবনে এই মূল্যবোধগুলিই নতুন দিশা দেখাবে।
হিরণ্ময় গোস্বামী মহারাজের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বহু আগেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন এবং তার জন্য আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন। শুভেন্দুর মন্তব্য, “জটায় হাত দিয়েছে, ধ্বংস তো হবেই। কিছুই ভুলিনি। বিচারও হবে, হিসাবও হবে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ অপশক্তি ও মৌলবাদী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসঙ্গে বিরোধী শিবিরের একাধিক মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “বাংলার মানুষকে শব্দদূষণ থেকে বাঁচানোর কাজ করেছি।”
গুরু পূর্ণিমার এই মঞ্চ থেকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







