কলকাতা, ২১ জুলাই ২০২৬: আজ, একুশে জুলাইয়ের দিনটিতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিবর্ষণে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এতদিন গোপন থাকা তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট এবার বিধানসভায় পেশ করে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব তথা পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ অকাতরে গুলি চালিয়েছিল।
শুভেন্দুর আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, মণীশ গুপ্তকে আইনি আড়াল দিতে এবং বাঁচাতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত কমিশনের কাছে মহাকরণের গুরুগুরত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি ও তথ্য সরবরাহ পর্যন্ত করতে দেননি।
“গুলি চালানো ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিনাপ্ররোচনায়”
বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের রিপোর্ট থেকে একাধিক ধারা ও তথ্য উদ্ধৃত করেন।
কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর মূল অভিযোগসমূহ:
-
গুলি চালানোর কোনো যৌক্তিকতা ছিল না: বিচার বিভাগীয় কমিশনের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেদিন আন্দোলনকারীরা মহাকরণ থেকে বেশ খানিকটা দূরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। মহাকরণ দখল বা আক্রমণের যে জুজু তুলে ধরা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ফলে বলপ্রয়োগ বা গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতির কোনো প্রশাসনিক যুক্তি বা যথার্থতা ছিল না।
-
বিনাপ্ররোচনায় চরম পদক্ষেপ: কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশে সেদিন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যবিহীনভাবে এবং কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই নিরস্ত্র সাধারণ যুব কংগ্রেস কর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি বর্ষণ করেছিল।
“নিজের মন্ত্রীকে বাঁচাতে তথ্য লোপাট করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী”
বাম আমলের ঘটনাকে তৃণমূল কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছে এবং সত্য গোপনের চেষ্টা করেছে, তা তুলে ধরে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সোজাসাপ্টা তোপ:
“তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কমিশনের তদন্ত চলাকালীন মহাকরণ থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করে দেওয়া হয়! তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য বা সরকারি রেকর্ড সরবরাহ করেননি। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন, সত্যিটা সামনে এলে তাঁর প্রিয় পাত্র তথা তৎকালীন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতেন। যাকে তাঁরা শহীদদের হত্যাকারী বলতেন, তাকেই পরে নিজেদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে লালবাতি গাড়িতে ঘুরিয়েছেন!”
ঐতিহাসিক ঘটনার নতুন আলোয় একুশে জুলাই
বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একুশে জুলাই মানেই ছিল বামফ্রন্ট সরকারের পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ১৩ জন শহীদের আত্মত্যাগের স্মরণে মহাসভা। তবে রাজত্ব বদলের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের হাত ধরে আজ ২১ জুলাইয়ের দিনে বিধানসভার ফ্লোরে বিচার বিভাগীয় কমিশনের এই অদেখা রিপোর্ট সামনে আসায়, তৎকালীন প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতি নিয়ে এক নতুন বিতর্কের সূচনা হলো।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







