উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ও যাত্রী পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আজ। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ (Amrit Bharat Station Scheme) প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করেছে জলপাইগুড়ি রোড রেলওয়ে স্টেশন। আজ, শুক্রবার বিকেলে ভার্চুয়ালি এই পুনর্নির্মিত আধুনিক স্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই খবরকে কেন্দ্র করে গোটা জলপাইগুড়িতে এখন আনন্দের উৎসব, সেজে উঠেছে স্টেশন চত্বরও।
৩৫ কোটির রূপান্তর: কী কী নতুন সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। স্টেশনের খোলনলচে বদলে ফেলে যুক্ত করা হয়েছে একগুচ্ছ বিশ্বমানের সুবিধা:
আধুনিক যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য: স্টেশনে তৈরি হয়েছে নতুন সার্কুলেটিং এরিয়া, সুসংগঠিত পার্কিং লট, প্রশস্ত প্রবেশদ্বার, আধুনিক ওয়েটিং রুম, ক্যাফেটেরিয়া এবং মডিউলার শৌচাগার।
বিশেষ আকর্ষণ: শিশুদের বিনোদনের জন্য স্টেশনে রাখা হয়েছে বিশেষ কিডস জোন এবং উন্নত বুকিং কাউন্টার।
সহজ যাতায়াত পরিকাঠামো: যাত্রীদের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছে ১২ মিটার চওড়া নতুন ফুটওভার ব্রিজ, দু’টি লিফট, ট্রলি ও হুইলচেয়ার চলাচলের জন্য র্যাম্প এবং দৃষ্টিহীন যাত্রীদের সুরক্ষায় বিশেষ ট্যাকটাইল পথ।
ডিজিটাল স্টেশন: বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ও উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা (Passenger Information System)।
সৌন্দর্যায়ন ও সবুজায়ন: স্টেশন চত্বরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চারপাশ সবুজ গাছপালায় ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতে সুরক্ষার স্বার্থে করা হয়েছে হাই-টেক আলোকসজ্জা।
উত্তরবঙ্গের নতুন যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল
পশ্চিমবঙ্গের যে ৯৮টি স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের অধীনে আধুনিকীকরণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো এই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন। রেল আধিকারিকদের দাবি— উন্নত পরিকাঠামো, আধুনিক যাত্রী সুবিধা এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ-বান্ধব ব্যবস্থা চালু করার ফলে এই স্টেশনটি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা ও কার্যকর রেলওয়ে ট্রাভেল হাবে পরিণত হবে। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনের পর থেকেই সমস্ত আধুনিক পরিষেবা সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







