কলকাতা, ১৬ জুলাই ২০২৬: হাজার বছরের সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক এবং ভক্তি-আনন্দের মিলনমেলা রথযাত্রাকে ঘিরে এবার নতুন এক আবেগের জোয়ার বাংলায়। ছাব্বিশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, এই প্রথম রাজ্যে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এবং অভূতপূর্ব রাজকীয় মর্যাদায় পালিত হতে চলেছে রথ উৎসব। পূর্বতন জমানার সমস্ত খামতি ও ভয় কাটিয়ে এবার ওড়িশার পুরীর ধাঁচেই তিলোত্তমা সহ গোটা রাজ্যজুড়ে রথের চাকা গড়াতে চলেছে পূর্ণ জৌলুসে।
এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জোড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সনাতনী সংস্কৃতির বিকাশ এবং রথযাত্রার গরিমা পুনরুদ্ধারে সম্পূর্ণ কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন রাজ্য সরকার।
“ভয় চলে গিয়েছে, ভরসা বেরিয়ে পড়েছে”: হুঙ্কার শমীক ভট্টাচার্যের
বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের কিছু কিছু সংবেদনশীল এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব পালনের ক্ষেত্রে যে অলিখিত বাধা বা ভয়ের পরিবেশ ছিল, এবার তা সম্পূর্ণ দূর হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলির বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:
“বাংলার মানুষ হয়তো এতদিন এক গভীর ভয়ের আবহে বাস করছিলেন, যার কারণে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রথযাত্রায় অংশ নিতে পারতেন না। আমরা দেখেছি, মুর্শিদাবাদ, মালদহ কিংবা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু এলাকায় একটা সময় মানুষ সন্ধ্যার সময় ঘরের বাইরে শাঁখ বাজাতে পর্যন্ত ভয় পেতেন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই মৌলবাদী ও ধর্মান্ধ শক্তিগুলি আজ সম্পূর্ণ চুপ করে গিয়েছে। মানুষের মন থেকে ভয় চলে গিয়েছে এবং ভরসা আজ রাস্তায় নেমে এসেছে। তাই এবার আপামর জনসাধারণ দ্বিগুণ উৎসাহে রথের দড়ি টানতে রাস্তায় নামবেন।”
৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য নবান্নের
বাঙালির এই আবেগকে স্রেফ মুখের কথায় না রেখে, প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যজুড়ে রথযাত্রার সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী রথগুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
-
সরকারি সহায়তা: “যে সমস্ত রথযাত্রাগুলি বাংলায় দশকের পর দশক ধরে ঐতিহ্য মেনে পরিচালিত হয়ে আসছে, প্রাথমিকভাবে এমন ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আমরা ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি আর্থিক অনুদান আজ প্রদান করলাম।”
-
ঐতিহ্যের সংস্কার: সরকারের এই সামান্য অবদানের টাকা দিয়ে কমিটিগুলিকে পুরনো ও ঐতিহাসিক রথগুলির সংস্কার, কাঠের কাজ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রথ মানেই অপেক্ষা, মেলা আর পাপড়-জিলিপির গন্ধ
বাঙালির কাছে রথ মানে স্রেফ কাঠ আর দড়ির কাঠামো নয়। রথ মানে রথের মেলা, উল্টোরথের টান, বর্ষার দুপুরে গরম গরম পাঁপড় ভাজা আর জিলিপির গন্ধ। রথের দড়ি একবার ছুঁয়ে জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্যলাভের আশায় যে আবালবৃদ্ধবনিতা প্রতি বছর অপেক্ষা করে থাকেন, তাঁদের সেই ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতেই এবার রাজ্যজুড়ে মেলা প্রাঙ্গণগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, ইসকন (ISKCON)-এর রথযাত্রা থেকে শুরু করে মাহেশের ঐতিহাসিক রথযাত্রা— সর্বত্রই এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ ট্রাফিক কন্ট্রোল, সিসিটিভি নজরদারি এবং ভক্তদের জন্য নিখরচায় পানীয় জলের বুথ তৈরি করছে প্রশাসন। ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে বাংলার নিজস্ব সনাতন ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







