ক্রীড়া ডেস্ক, ২ জুলাই ২০২৬: লড়াই একেই বলে। বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার জন্য জান লড়িয়ে দেওয়া, নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া সংগ্রাম এবং হারার আগে হেরে না গিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জেতার জন্য ঝাঁপানো— এই তিন মন্ত্রেই ফিফা বিশ্বকাপের নক-আউটে বিপর্যয় এড়াল ইংল্যান্ড। ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে কঙ্গোর রূপকথার দৌড় থামিয়ে ২-১ গোলে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিল থ্রি লায়ন্সরা। একটা সময় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিলেন যে ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও একটা মস্ত বড় অঘটন ঘটতে চলেছে। কিন্তু আফ্রিকান দলটির রূপকথাকে টেনে নামিয়ে বাস্তবের কঠিন মাটি দেখিয়ে দিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। নিজে জোড়া গোল করে আরও একবার প্রমাণ করলেন ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠত্ব।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে এসেই চমক দিয়েছিল কঙ্গো। গ্রুপ পর্বে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দেওয়ার পর থেকেই টুর্নামেন্টে কঙ্গোর স্বপ্নের দৌড় শুরু হয়। ধারেভারে এগিয়ে থাকা কলম্বিয়ার কাছে হারলেও, উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে নক-আউটের টিকিট কাটে স্যামুয়েল মুথুস্বামীর ছেলেরা। প্রথমবারের মতো আফ্রিকার এই দেশ রাউন্ড অফ ৩২-এ ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বসেরা হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বুক চিতিয়ে মাঠে নেমেছিল। অন্যদিকে, খাতায়-কলমে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড সম্ভবত কঙ্গোকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেনি। ব্রিটিশ দর্পের সামনে ইবোলায় জেরবার ছোট্ট এই দেশ ধুলোয় মিশে যাবে— এমন এক গাছাড়া মনোভাব নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ডেকলান রাইসরা।
ম্যাচের শুরুতেই সেই অহংকারের চরম ধাক্কা খেতে হয় ইংল্যান্ডকে। ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটে ঘুমন্ত ইংল্যান্ড রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত গোল করে কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল। মাত্র ৭ মিনিটে গোল হজম করার পর মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও খেলার ছন্দ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। একের পর এক ভুল পাস আর বিপক্ষ বক্সে ঢুকে খেই হারিয়ে ফেলা— প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলাজুড়ে ছিল কেবলই ব্যর্থতার ছবি। ইংল্যান্ড যেমন নিজেদের ভুলে পিছিয়ে ছিল, তেমনই বারবার তাদের আক্রমণ আটকে দিচ্ছিলেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। প্রথমার্ধে অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন তিনি।
সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি কঙ্গো বেশ কয়েকটি কাউন্টার অ্যাটাকও তৈরি করেছিল। তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, ৪৪ মিনিটে হ্যারি কেনের পক্ষে রেফারি যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, তা নিয়ে ফুটবল মহলে তীব্র বিতর্ক থাকবে। সেই পেনাল্টি থেকেই ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান কেন। এর পর দ্বিতীয় ছিটকে যাওয়া ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রিটিশরা। শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের দ্বিতীয় জাদুকরী গোলেই কঙ্গোর প্রতিরোধ ভেঙে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ পকেটে পুরে শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। তবে হেরেও ফুটবল বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছে কঙ্গো।
সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড:
-
ইংল্যান্ড: ২ (হ্যারি কেন— ২)
-
ডি আর কঙ্গো: ১ (ব্রায়ান সিপেঙ্গা)
ফলাফল: ইংল্যান্ড ২-১ গোলে জয়ী এবং বিশ্বকাপের শেষ ১৬ বা রাউন্ড অফ ১৬-তে উত্তীর্ণ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







