best news portal development company in india

“স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ ফিরলে মামলা করবে না সরকার”, অনুপ্রবেশ রুখতে শাহের ‘৩ডি’ দাওয়াইয়ে সীমান্তে হিড়িক

SHARE:

 রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই অনুপ্রবেশ রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘৩ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট) ফরমুলা মস্ত বড় রূপ ধারণ করেছে। বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এক নজিরবিহীন উলটপুরাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের মাটিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা এবার আইনি ব্যবস্থা এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ে দলে দলে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে গুজরাট সফর থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ বা মামলা রুজু করবে না।

তিনদিনের গুজরাট সফরে গিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। শাহ বলেন:

“বাংলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর যে পরিবর্তন এসেছে, তা খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করত, আজ কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার কারণে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার অবৈধ বসবাসকারী নিজে থেকেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। যাঁরা স্বেচ্ছায় ভারত ছেড়ে চলে যেতে চান, বাংলার নতুন বিজেপি সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কেস ফাইল করবে না, বরং বিনা বাধায় তাঁদের সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যেতে সব রকম সাহায্য করা হবে।”

সীমান্তে ফিরতি ভিড়, জেলায় জেলায় তৈরি হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতির বাস্তব চিত্র ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর চেকপোস্টসহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক আইনি ও বেআইনি পারাপারের পয়েন্টে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশিকা মেনে রাজ্য জুড়ে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ (Detect), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (Delete) এবং পুশব্যাক বা বিতাড়ন (Deport)-এর প্রক্রিয়া শুরু হতেই জেলায় জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা অস্থায়ী শিবির তৈরির কাজ শুরু করেছে শুভেন্দু সরকার। এই সাঁড়াশি চাপের মুখে পড়েই আইনি জটিলতা এড়াতে হাজার হাজার বাংলাদেশী নাগরিক এখন সীমান্ত পার হয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন।

বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে পূর্বতন তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও নির্বিচারে বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছিল এবং সীমান্তকে উন্মুক্ত করে রেখেছিল। সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গের সচেতন নাগরিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তাঁরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সুরক্ষার পাশে আছেন। তাঁরা ব্যালটের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে ভারতের মাটিতে কোনও রকম অনুপ্রবেশ আর বরদাস্ত করা হবে না।” রাজ্য ও কেন্দ্রের এই যৌথ কঠোর অবস্থানের জেরে আগামী দিনে গ্রামীণ ও সীমান্ত বাংলার জনসংখ্যাগত সমীকরণে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *