আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকা ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রণালীটি সচল হওয়ার আগেই ইরান সরকার ওমানের সঙ্গে মিলে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ‘ট্রানজিট ফি’ বা কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও অসামরিক পরিকাঠামোয় যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের অর্থ সংগ্রহ করতেই এই কর বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে মিলে একটি খসড়া প্রোটোকল তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওমান সরকার বুধবার স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলপথে কোনো অতিরিক্ত কর বসানো সম্ভব নয়। রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, জাহাজের আকার, পণ্যসম্ভার (বিশেষত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং বিমার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারিত হবে। কিছু ক্ষেত্রে একটি বড় তেলবাহী জাহাজের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কর দাবি করা হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলি এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে একে অবাধ নৌ-চলাচলের আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
ভারতের জন্য এই কর অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাসের (LPG) ৯১ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ৫০ শতাংশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে, যা এই পথ দিয়েই আসে। এই অতিরিক্ত করের ফলে দেশে রান্নার গ্যাস ও পেট্রোপণ্যের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের কৌশলগত তেল ভাণ্ডারে মাত্র ২৫ দিনের সরবরাহ অবশিষ্ট থাকায় সরকার পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ভারত ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশের সাথে নিজের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







