ফুলিয়ার ৫২ ফুটের কালী
শান্তিপুরের ফুলিয়ার ৫২ ফুটের কালীপ্রতিমা ঘিরে রয়েছে নানা অজানা কাহিনি। ফুলিয়া নতুনবুইচা কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ এই বিশাল ভবতারিণী প্রতিমা। কথিত আছে, এক স্বপ্নাদেশের কারণেই থেমে গিয়েছিল মায়ের প্রতিমার উচ্চতা বৃদ্ধি। সেই থেকে প্রতিবছর একই উচ্চতায় পূজিত হয়ে আসছেন মা ভবতারিণী।
এবারও মহাধুমধামের সঙ্গে পালিত হচ্ছে ফুলিয়া নতুনবুইচার কালীপুজো। ১৯৮৯ সালে এই পুজোর সূচনা হয়। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, তার আগে শান্তিপুর ও ফুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারে কালীপুজো হলেও নতুনবুইচা এলাকায় তেমন কোনও আয়োজন ছিল না। সেই কারণেই গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে কালীপুজো শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
ছোট প্রতিমা থেকে ৫২ ফুটের ভবতারিণী
প্রথমদিকে ছোট আকারে ভবতারিণী রূপে মায়ের পুজো হতো। তবে প্রতিবছর ধীরে ধীরে প্রতিমার উচ্চতা বাড়ানো হয়। এভাবেই ছয় বছরের মাথায় প্রতিমার উচ্চতা পৌঁছে যায় ৫২ ফুটে।
কিন্তু এরপরই ঘটে এক ঘটনা, যা আজও পুজোর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কথিত আছে, ৫২ ফুটের প্রতিমাটি ধীরে ধীরে মাটির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এই ঘটনায় গোটা গ্রামে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় কান্নাকাটি।
ঠিক সেই সময় এক ভক্ত এসে জানান, স্বপ্নে মা তাঁকে আদেশ দিয়েছেন। মায়ের উচ্চতা যেন আর বাড়ানো না হয়। এরপর থেকেই ৫২ ফুট উচ্চতার প্রতিমায় পূজিত হয়ে আসছেন মা ভবতারিণী। সেই স্বপ্নাদেশের পর আর কখনও প্রতিমার উচ্চতা বাড়ানো হয়নি।
মণ্ডপেই তৈরি হয় বিশাল প্রতিমা
দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন মৃৎশিল্পীরা। মণ্ডপের মধ্যেই তৈরি হয় ৫২ ফুটের বিশাল প্রতিমা। দিনরাত পরিশ্রম করে কালীপুজোর আগেই সম্পূর্ণ করা হয় মায়ের মূর্তি। এই বিশাল প্রতিমা দর্শন করতে প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন।
বিসর্জনেও রয়েছে আলাদা রীতি
নতুনবুইচা নতুন সংঘের এই পুজোর বিসর্জন পদ্ধতিও বেশ ব্যতিক্রমী। সাধারণত নদী বা পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলেও এখানে সেই রীতি অনুসরণ করা হয় না। মণ্ডপেই মোটরের সাহায্যে জল দিয়ে মায়ের বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়।
বিসর্জনের দিনও এই বিশেষ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। সব মিলিয়ে ৫২ ফুটের ভবতারিণী কালী, স্বপ্নাদেশের কাহিনি এবং ব্যতিক্রমী বিসর্জন রীতি—এই তিন বৈশিষ্ট্যেই বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে ফুলিয়া নতুনবুইচার কালীপুজো।

Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






