রাজ্যে ফের পুলিশের এনকাউন্টার ঘিরে চাঞ্চল্য। এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রহ্লাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালিকার অর্ধনগ্ন দেহ। পরিবারের অভিযোগ, আগের রাতে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার মা। সেখানে নাবালিকা তার বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছিল। কিছুক্ষণ পর থেকেই তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন সকালে দেহ উদ্ধারের পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় আচমকাই সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পরপর গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয় অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বারুইপুরেও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্ত বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তিন মাসের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন। তবে পুলিশের এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং আইন মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাইঘাটার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







