মহালয়ার পরদিনই দুর্গাপুজোর আবহে মাতল বর্ধমান। ঢাকঢোল, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠল দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির চত্বর। শতাব্দীপ্রাচীন রীতি মেনে ঐতিহাসিক কৃষ্ণসায়রের চাঁদনি ঘাট থেকে রূপোর ঘটে জল ভরে আনা হল মন্দিরে। সুসজ্জিত রথে চাপিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবীর ঘট নিয়ে আসেন ভক্তরা। এরপর নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ঘট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাঢ়বঙ্গে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।
প্রতি বছরের মতো এবারও সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজো ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। নবমী পর্যন্ত চলবে দেবী সর্বমঙ্গলার বিশেষ পুজো। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এবং প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ এই মন্দির নির্মাণ করান। তবে মন্দিরের আরাধ্যা দেবীর মূর্তিটি আরও প্রাচীন বলে মনে করা হয়। মূর্তির বয়স নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কেউ মনে করেন প্রায় এক হাজার বছর, আবার কারও মতে তা প্রায় দু’হাজার বছরের পুরনো। কষ্টিপাথরের তৈরি অষ্টাদশভুজা সিংহবাহিনী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজিত হন দেবী সর্বমঙ্গলা। দুর্গাপুজোর সময় এই প্রাচীন মন্দিরে ভক্তসমাগম আরও বেড়ে যায়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







