ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।”
১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে প্রথমে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন পরিষেবাতেও কাটছাঁট করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মেট্রো ও ট্রেনের উপর নির্ভর করেন। সবার ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। তাই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সম্পূর্ণ অসুবিধার মধ্যে ফেলে রাখা উচিত নয়।
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। কিন্তু পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে মেট্রোর সময়সূচি বা ট্রেনের সংখ্যা কমানোর মতো বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করার কথাও উঠে আসে শুনানিতে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভের ডাক। আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। তবে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও যাতায়াতের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







