আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার সংস্কারের কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। জুবলি মোড় থেকে সেল ISP গেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। ভারী যানবাহনের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছিল বড় বড় গর্ত। এর ফলে সমস্যায় পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যানবাহন চালক এবং প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতকারী পড়ুয়ারা।
রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি রাস্তার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং চলমান সংস্কারকাজ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসানের উদ্যোগ
জুবলি মোড় থেকে সেল ISP গেট পর্যন্ত এই রাস্তা শিল্পাঞ্চলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর সংখ্যক ভারী যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যান চলাচলের জেরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার প্রায় ৬ হাজার স্কুলপড়ুয়া এই পথ ব্যবহার করে স্কুলে যাতায়াত করে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। ফলে রাস্তার বেহাল দশা শুধু যান চলাচলেই সমস্যা তৈরি করছিল না, পড়ুয়াদের যাতায়াতেও তৈরি হচ্ছিল অসুবিধা।
বিধায়কের উদ্যোগের পর শুরু সংস্কারকাজ
রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং এই সমস্যা নিয়ে আন্দোলনও করা হয়েছিল।
এর আগে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা ADDA-র পক্ষ থেকেও রাস্তার কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে বিভিন্ন কারণে সেই কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এবার সেই জটিলতা কাটিয়ে ফের রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, এবার রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, কাজ যাতে মাঝপথে বন্ধ না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিকভাবে কাজ চললে দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
বিধায়কের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় ছিলেন। ভারী যানবাহনের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদেরও প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। তাই দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা জরুরি ছিল।
বাজেট ও পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর দাবি
রাস্তার সংস্কার নিয়ে বাজেট ও অর্থপ্রদানের বিষয়েও কিছু সমস্যা ছিল বলে জানান বিধায়ক। তাঁর দাবি, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পন্নমবলমের উদ্যোগে পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান হওয়ার পর ঠিকাদার সংস্থা ফের কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
বিধায়কের দাবি, এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে আলাদা বাজেট তৈরি করা হয়নি। আগে যে বাজেট অনুমোদিত ছিল, সেই বাজেট এবং নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ীই বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই কাজের জন্য আগের ঠিকাদারই দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।
তবে প্রকল্পটির সঠিক মোট ব্যয়ের পরিমাণ এই মুহূর্তে তিনি জানাতে পারেননি বলে জানান বিধায়ক।
পুজোর আগেই রাস্তা তৈরির আশা
রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক এবং স্কুলপড়ুয়াদের জন্য রাস্তার সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন মূল লক্ষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দাবি, কাজ এবার ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাস্তার কাজ শেষ হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যা কমবে, তেমনই স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ কতটা সম্পূর্ণ হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







