আমেরিকার চাপের কাছে কোনওভাবেই মাথা নত করবে না ইরান। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভায় দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই ইরানের প্রেসিডেন্টের এই পাল্টা বার্তা।
রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে পেজেস্কিয়ান দাবি করেন, ইরান সন্ত্রাসবাদী নয়, বরং আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার শিকার। তাঁর বক্তব্য, দেশের উপর হামলার মুখে আত্মরক্ষার জন্যই পদক্ষেপ করেছে তেহরান। ইরানের নিরীহ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে জানান, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে। তবে সেই শক্তি অন্য দেশের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করতে চায় না তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও স্পষ্ট করেন, দেশের উপর নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালীকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কাজে ব্যবহার করার বিরোধিতাও করেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পেজেস্কিয়ান। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
এর একদিন আগে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকেই ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে দুই রাষ্ট্রনেতার বক্তব্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলতে থাকা উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা হয়নি।
সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনা—দুইয়ের মাঝেই ইরান জানিয়ে দিল, চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়, বরং আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় তারা।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







