দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এবার বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের এবারের থিম ‘উৎস’। আর সেই থিমের কেন্দ্রে রয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিনি ‘ভারত কেশরী’ নামেও পরিচিত। তাঁর জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দেশভাগের সময় বাংলাকে ঘিরে তাঁর ভূমিকা শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে মণ্ডপে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আগে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকার কথা বললেও, বাস্তবে বিভিন্ন পুজো কমিটির নেতৃত্বে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নজরে এসেছে। একসময় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবে পরিচিত সুরুচি সংঘের এবারের থিমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
চলতি বছর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেই আবহেই সুরুচি সংঘের মণ্ডপে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পী অনির্বাণের পরিকল্পনায় মণ্ডপে উঠে আসবে তাঁর জীবনের নানা জানা-অজানা অধ্যায় এবং বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক।
দেশভাগের সময় বাংলাকে ঘিরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত। হিন্দু মহাসভার নেতা হিসেবে তিনি বাংলা ভাগের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা। ১৯৪৭ সালের ১৯ মার্চ ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেলকে লেখা চিঠিতে তৎকালীন বাংলার গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজও বাংলা ভাগের আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও হিন্দু মহাসভার ভূমিকার উল্লেখ করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
তবে বাংলার দেশভাগের ইতিহাস কেবল একক কোনও নেতা বা সংগঠনের ভূমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেই সময় কংগ্রেস, মুসলিম লিগ, ব্রিটিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির অবস্থানও দেশভাগের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছিল।
সব মিলিয়ে, সুরুচি সংঘের ‘উৎস’ থিমে দুর্গাপুজোর শিল্পসজ্জার পাশাপাশি দর্শকদের সামনে উঠে আসবে ইতিহাস, রাজনীতি ও
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







