কলকাতার রাস্তার নামকরণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যেন ক্রমশ আরও জমে উঠছে। মার্ক্স, লেনিন, হো চি মিনের মতো ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে থাকা রাস্তার নাম বদলানো উচিত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর সেই আবহেই এবার প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে রাস্তা করার পক্ষে সওয়াল করলেন বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
সজল ঘোষের বক্তব্য, মার্ক্স-লেনিনের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁদের নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল। আর সেই প্রসঙ্গেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে বড় রাস্তা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
সজল ঘোষ বলেন, বুদ্ধবাবুর নামে রাস্তা হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। বরং পুরসভার কাছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে বড় রাস্তা করার আবেদন জানাবেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এমন আরও অনেক প্রাজ্ঞ নেতা রয়েছেন, যাঁদের সততা এবং জীবন নিয়ে প্রশ্ন নেই।
এদিকে রাস্তার নাম বদল নিয়ে বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। লেনিন সরণি-সহ আরও কয়েকটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নামকরণ সংক্রান্ত কমিটির কাছে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে লেনিন সরণির নতুন নাম হিসেবে ভারতীয় জনসংঘের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি দেবপ্রসাদ ঘোষের নাম উঠে আসছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পর ভারতীয় জনসংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন দেবপ্রসাদ ঘোষ।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে থাকা রাস্তার নাম তো বদলানো হয়নি। তাহলে এখন কেন মার্ক্স, লেনিন বা অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম মুছে ফেলার উদ্যোগ?
নাম বদলের পক্ষে-বিপক্ষে এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সামনে আসছে আরও এক প্রশ্ন—রাস্তার নাম কি শুধুই রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতীক, নাকি শহরের ইতিহাসেরও অংশ? আর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে নতুন রাস্তার প্রস্তাব সেই বিতর্ককেই আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







