পুজোর মুখে কলকাতার হোটেল-রেস্তোরাঁয় কড়া নজরদারি। পথে নেমেছে কলকাতা পুরসভা, আর অভিযানে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি। কোথাও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবার, কোথাও খাবারে মেশানোর অভিযোগ বিষাক্ত রঙের, আবার কোথাও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। স্বাভাবিকভাবেই পুরসভার এই অভিযানে অনেক ব্যবসায়ীর কপালে চিন্তার ভাঁজ।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশের পরই শুরু হয়েছে এই বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। ছোট খাবারের দোকান থেকে শুরু করে মাঝারি ও বড় রেস্তোরাঁ—নজরদারি থেকে বাদ যাচ্ছে না কেউই। এমনকি নামী-দামি রেস্তোরাঁ এবং জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানেও চলছে পরিদর্শন।
অভিযানে কোথাও পচা মাংস, কোথাও খাবারে অননুমোদিত রং ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। আবার কোনও রেস্তোরাঁর পনিরে চুল পাওয়ার মতো ঘটনাও উঠে এসেছে। বেশ কিছু মিষ্টির দোকান ও হোটেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুধু খাবারের গুণমান নয়, রান্নাঘর, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধিও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই কলকাতায় ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। এবার আরও ১৪টি রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ফলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় মোট ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে পুরসভার দাবি।
লাইসেন্স বাতিলের তালিকায় রয়েছে একাধিক পরিচিত নাম—আরসালান, সিমলা বিরিয়ানি, করিমস এবং নিজাম। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে M/S Mist and Morels, শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার, শম্ভু অয়েল মিল, সোফিয়া হোটেল, SS এন্টারপ্রাইজ, দুর্গাপ্রসাদ চৌরাশিয়া, গিরিশ চন্দ্র দে, মিঠাই ভান্ডার, সাগর ফুট এবং মনোজ কুমার শাহ।
পুজোর আগে এই অভিযানকে স্বাভাবিকভাবেই বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে কোনও আপস নয়। ফলে ব্যবসা করতে হলে নিয়ম মেনেই করতে হবে। আর নিয়ম ভাঙলে এবার লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে কড়া পদক্ষেপ—সবই হতে পারে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







