সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগেই রেজিনগরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আর সেই আবহেই নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ূন কবীর। কিন্তু একইসঙ্গে বিজেপি বিরোধী সমস্ত দলের মধ্যে ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন তিনি। আর তাতেই উঠছে প্রশ্ন—রেজিনগরে লড়াই করতে কি তাহলে ভয় পাচ্ছেন হুমায়ূন?
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ূন কবীর। পরে নিয়ম মেনে রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়েছিলেন হুমায়ূন। এবার সেই কেন্দ্রেই নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু উপনির্বাচনের আগে তাঁর জোটের ডাক ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। হুমায়ূনের বক্তব্য, বিজেপিকে রুখতে বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী, নওশাদ সিদ্দিকী এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি নিজেদের ‘ইগো’ সরিয়ে এক টেবিলে বসতে পারেন, তাহলে বিজেপির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই দেওয়া সম্ভব।
হুমায়ূনের কথায়, বাংলার স্বার্থে জোটবদ্ধ লড়াই জরুরি। তাহলেই একটি গ্রহণযোগ্য বিরোধী দল তৈরি করা সম্ভব হবে।
এর আগে রেজিনগর আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের হাত শক্ত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তবে হুমায়ূন নিজে কোনও নির্দিষ্ট দলকে রেজিনগর ছাড়ার কথা না বললেও, উপনির্বাচনের আগে তাঁর জোটের পক্ষে জোরালো সওয়াল নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার ঘোষণার পরেও কেন অন্য বিরোধী দলগুলির সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তিনি? রাজনৈতিক মহলে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ফল প্রকাশ ৯ অক্টোবর। তার আগে রেজিনগরের মাটিতে হুমায়ূনের এই রাজনৈতিক সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







