পুজোর অনুদান নিয়ে অবশেষে বড় ঘোষণা! সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে সরকারি অনুদান নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে আগের সরকারের অনুদান দেওয়ার নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “২৫ হাজার টাকা দিয়ে অনুদান শুরু হয়েছিল, ১ লক্ষ ১০ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে। ভোটে তো কোনও লাভ হয়নি। এতে ভোটে লাভ হয় না।” তাঁর দাবি, সরকারের যে দায়িত্ব, সরকার সেটাই পালন করবে। অনুদানের অঙ্ক বাড়ানোর এই প্রবণতাকে তিনি ‘অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন।
এবারের পুজোয় থিম পুজোর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু শর্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এমন কোনও আয়োজন করা যাবে না, যাতে কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—এবার পুজো কমিটিগুলিকে কত টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার?
সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শহরে একটি ভালো পুজো করতে গেলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। গ্রামাঞ্চলেও ৪-৫ লক্ষ টাকার কমে ভালো পুজো করা কঠিন। কিন্তু বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অর্থসাহায্য দেওয়ার পক্ষে তিনি নন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকার অনুদান দেবে। আর বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। বড় বাজেটের পুজোগুলোকে বলতে চাই, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না। যাঁরা নেবেন না, তাঁদের বিশেষ ধন্যবাদ।”
তবে যেসব ছোট পুজো কমিটি সরকারি সাহায্য ছাড়া পুজো আয়োজন করতে পারবে না, তাঁদের জন্য সরকারের তরফে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকে বেশি করে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, এবার সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে ছোট ও বড় বাজেটের পুজোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রাখার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।
এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পুজো কমিটিগুলির প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং বড় বাজেটের পুজোগুলি শেষ পর্যন্ত সরকারি অনুদান ছাড়াই কীভাবে আয়োজন করে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







