কালীঘাট মন্দিরে রক্ষিত দেবীর বিপুল গয়না ও মূল্যবান সম্পত্তি নিয়ে এবার উঠল গুরুতর প্রশ্ন! প্রায় ৪৫ বছর ধরে দেবীর গয়না রাখা লকারের চাবির কোনও হদিশ নেই—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করল কলকাতার প্রাচীন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে কালীঘাটের দেবীর গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লকারে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু সেই লকারের চাবি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লকারের ভিতরে থাকা সম্পদ আদৌ সুরক্ষিত রয়েছে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিলের দাবি, বছরের পর বছর ধরে দেবীর গয়না এবং মন্দিরের অন্যান্য সম্পত্তির যথাযথ হিসাব রাখা হয়নি। মন্দিরের সম্পত্তি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ফ্যামিলি কাউন্সিলের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর অভিযোগ, মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। এর ফলে ভক্তদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
শুধু লকারের চাবি নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নয়, মন্দিরের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা তছরুপ হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে জেলা বিচারকের কাছে।
কেন জেলা বিচারকের কাছে এই অভিযোগ? কারণ, পদাধিকার সূত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারকই কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান।
অভিযোগপত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিল। তাঁদের দাবি, ২০১৪ সাল থেকেই কালীঘাট মন্দির কমিটির নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ার কথা। কমিটিতে পাঁচজন নির্বাচিত সদস্য এবং ছয়জন বাইরের সদস্য থাকার কথাও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।
ফলে একদিকে ৪৫ বছর ধরে লকারের চাবির হদিশ নেই, অন্যদিকে মন্দিরের সম্পত্তির হিসাব এবং পরিচালন কমিটি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
তবে দেবীর গয়না বা সম্পত্তি সত্যিই চুরি বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হলে তবেই স্পষ্ট হবে লকারের ভিতরে কী রয়েছে এবং এত বছর ধরে চাবির হদিশ কেন মেলেনি।
কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে ওঠা এই অভিযোগে এখন নজর প্রশাসন ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







