মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে কয়েকদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাল কলকাতা হাই কোর্ট। পুলিশের তরফে মসজিদ কমিটিগুলিকে মৌখিকভাবে মাইক খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক খোলার কোনও লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মূলত পুলিশের কথিত মৌখিক নির্দেশ এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে। প্রায় চার হাজার মসজিদের আপত্তির কথা বলা হলেও অধিকাংশ মসজিদ এই মামলার অংশ নয় বলেও আদালত উল্লেখ করে। এরপরই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।
তবে আদালতের এই রায়ের পর মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে স্পষ্টতা এসেছে। মামলায় মসজিদগুলির পক্ষে সওয়াল করা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে মাইকে আজান দেওয়া যেতে পারে। যেসব মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেও নিয়ম মেনে ফের মাইক লাগানো যেতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য।
অর্থাৎ, মাইক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে শব্দদূষণ সংক্রান্ত নির্ধারিত নিয়ম ও শব্দসীমা মেনেই মাইক ব্যবহার করতে হবে। ফলে মসজিদের মাইক নিয়ে চলা বিতর্কে আপাতত আদালতের রায়ে একটি আইনি অবস্থান স্পষ্ট হল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







