অতিবৃষ্টি এবং জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এবং হুগলির আরামবাগে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া সফরে যাওয়ার পথেই সবং ও আরামবাগে থামবেন তিনি।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সাহায্য করার বার্তাও দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি এবং ডিভিসির জল ছাড়ার জেরে উদ্বেগ বাড়ছে আরামবাগ মহকুমায়। প্রবল বৃষ্টির কারণে বাড়ছে দ্বারকেশ্বর নদীর জলস্তর। একইসঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলের প্রভাবে খানাকুলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মুণ্ডেশ্বরী এবং রূপনারায়ণ নদীর জলও ক্রমশ বাড়ছে।
ইতিমধ্যেই আরামবাগের সালেপুর পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু জায়গায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। গ্রামের তিনটি রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। ফলে সালেপুরের পশ্চিমপাড়ার শতাধিক পরিবার কার্যত গৃহবন্দি। কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও বুক সমান জল পেরিয়ে চলছে মানুষের যাতায়াত।
দ্বারকেশ্বর শাখা খালের জল উপচে রাস্তার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও জলমগ্ন হয়েছে। বুধবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান আরামবাগের মহকুমাশাসক রবি কুমার, বিধায়ক হেমন্ত বাগ-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। দুর্গত এলাকায় ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে এবং একটি ফ্লাড শেল্টারও খোলা হয়েছে।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হুগলি জেলা প্রশাসনের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তবে নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে কিংবা ডিভিসি আরও জল ছাড়লে জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আরামবাগ ও খানাকুলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। সবং ও আরামবাগ সফরে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার বিষয়ে সরাসরি খোঁজ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







