best news portal development company in india

চা বাগানের ব্যাপক প্রসার, টি-ট্যুরিজমে জোর পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের

SHARE:

উত্তরবঙ্গের চা-বাগানকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সরকারি চা-বাগানের জমি নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার চা-বাগানকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, বেআইনি ভাবে চা-বাগানের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে চা-বাগানের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, বেআইনি ভাবে জমি বিক্রির টাকা রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। সরকারি চা-বাগানের জমি কীভাবে, কার স্বার্থে এবং কোন নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিশনের আওতায় উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের জমি সংক্রান্ত অভিযোগও আনার দাবি জানিয়েছেন শঙ্কর। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের সময়ে সরকারি চা-বাগানের অব্যবহৃত জমির একটি অংশ পর্যটন ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল বিজেপি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে শুধু অভিযোগ বা তদন্তেই থেমে থাকতে চাইছে না রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলিকে পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। বিশেষ করে টি-ট্যুরিজম বা চা-বাগান পর্যটনকে আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেওয়া হবে। চা-বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী বাংলো এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বিভিন্ন চা-বাগানের মালিক ও সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে বহু পুরনো ঐতিহ্যবাহী বাংলোগুলিকে পর্যটকদের থাকার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটকেরা যাতে চা-বাগানের পরিবেশের মধ্যে থেকেই উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি ও চা-সংস্কৃতির স্বাদ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

শুধু বাংলো নয়, চা-বাগানের ভিতরে হোম-স্টে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের থাকার সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনই স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও নতুন আয়ের রাস্তা খুলবে। পর্যটনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে স্থানীয় মানুষ এবং চা-শ্রমিকদের সরাসরি যুক্ত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের লক্ষ্য, চা-বাগানকে শুধুমাত্র চা উৎপাদনের জায়গা হিসেবে না রেখে তাকে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। স্থানীয় শ্রমিক, বাসিন্দা, ছোট ব্যবসায়ী এবং হোম-স্টে মালিকদের সঙ্গে পর্যটন শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।

অর্থাৎ, একদিকে চা-বাগানের জমি নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত, অন্যদিকে সেই চা-বাগানকেই কেন্দ্র করে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার—দুই দিকেই একসঙ্গে এগোতে চাইছে রাজ্য। শঙ্কর ঘোষের দাবি, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলিতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং তার সুফল সরাসরি পৌঁছবে স্থানীয় মানুষের কাছেও।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *