নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ঘিরে টানা অচলাবস্থার পর সোমবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। প্রথম সপ্তাহে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও হইচইয়ের জেরে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হয়েছিল। নতুন সপ্তাহের শুরুতেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের দিকে এগোতে চাইছে, তবে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ফের সংসদ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারের এজেন্ডায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলির মধ্যে রয়েছে Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026। সূত্রের খবর, সোমবারই লোকসভায় এই সংশোধনী বিল পেশ করার পাশাপাশি তা পাস করানোর চেষ্টা করবে কেন্দ্র। যদিও বিলটি কবে আলোচনার জন্য তোলা হবে, তা সংসদের কার্যসূচির ওপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকলচক্র পরিচালনা বা অন্য কোনও অসাধু উপায়ে পরীক্ষায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা জালিয়াতির চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেও একাধিক নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তদন্ত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে চার্জশিট জমা পড়ার তিন মাসের মধ্যেই মামলার বিচার সম্পন্ন করা যায়।
এদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, শুধু নতুন আইন আনলেই হবে না, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং সরকারের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। ফলে সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহেও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদের সম্ভাবনা থাকছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







