জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুতে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে রাজ্যে। সরকারি সূত্রের দাবি, নথি যাচাইয়ের সময় সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি ধরা পড়েছে সীমান্তবর্তী তিন জেলা—মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহে। এই তিন জেলায় ইস্যু হওয়া বিপুল সংখ্যক জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র এখন সরকারের নজরে এসেছে এবং সেগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার, উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার এবং মালদহে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিস্তারিত যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জাল নথি তৈরির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি শংসাপত্র ইস্যু হওয়ায় প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। কোথায় কীভাবে এই বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে, তা খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর নিয়মেও বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে আর পঞ্চায়েত প্রধানদের মাধ্যমে এই শংসাপত্র ইস্যু করা হবে না। পরিবর্তে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের হাতেই সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
শুধু সীমান্ত জেলা নয়, কলকাতার গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার, মেটিয়াবুরুজ, তিলজলা-সহ একাধিক এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশের পর ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দল কলকাতা, হাওড়া, বাদুড়িয়া-সহ একাধিক পুরসভা এবং বিভিন্ন পঞ্চায়েতে নথি যাচাই শুরু করেছে। পুরসভার রেজিস্টার, আবেদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখে জালিয়াতির উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







