best news portal development company in india

তিন মঞ্চের রাজনীতি ও হাই-টেক নজরদারি: একুশে জুলাই উপলক্ষে কলকাতায় পুলিশের আঁটসাঁট নিরাপত্তাবেষ্টনী

SHARE:

কলকাতা, ২১ জুলাই ২০২৬: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক মহাকরণ অভিযানের স্মরণে আজ তিলোত্তমায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শহিদ স্মরণ সভা। তবে এ রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর এটিই প্রথম একুশে জুলাই, যেখানে একই দিনে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে আয়োজিত হচ্ছে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির পৃথক সমাবেশ। এই ত্রিমুখী হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কলকাতা পুলিশ সমগ্র শহরজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে।

তিনটি আলাদা রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে লালবাজার।

কোথায় কোন মঞ্চ?

আজ শহরের তিনটি প্রধান স্থানে দুপুর থেকে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সভা শুরু হচ্ছে:

  1. বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম (তারামণ্ডল): প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সভা।

  2. গান্ধী মূর্তির পাদদেশ (মেয়ো রোড): বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ‘আসল তৃণমূল’ বা ‘ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল’-এর সমাবেশ।

  3. শহিদ মিনার ময়দান: প্রদেশ কংগ্রেসের মূল শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান।

আকাশ ও আকাশে-বাতাসে কড়া নজরদারি: ড্রোন ও অতিরিক্ত বাহিনী

কলকাতা পুলিশ লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনটি সভাস্থল ও সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকাগুলির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান খুঁটিনাটি:

  • ড্রোন সার্ভেইল্যান্স: কলকাতা পুলিশের ড্রোন ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি সভাস্থলের ওপর দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে এই উড়ন্ত ক্যামেরা।

  • বিপুল পুলিশ মোতায়েন: তিনটি সভাস্থল মিলিয়ে মোট ১ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

  • শীর্ষ আধিকারিকদের নজরদারি: সেন্ট্রাল ও সাউথ ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা অন্তত ৫ জন ডেপুটি কমিশনার (DC) পদমর্যাদার আইপিএস আধিকারিক সরাসরি গ্রাউন্ডে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা তদারকি করছেন।

  • র‍্যাফ ও এইচআরএফএস: সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা রুখতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড (HRFS)। পাশাপাশি স্পর্শকাতর মোড়গুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন রাখা হয়েছে।

যান চলাচল ও বিকল্প রুটের ট্রাফিক গাইডলাইন

যদিও লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে যে এবার সভার কারণে কোনো প্রধান রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবুও মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার একাংশে যানজটের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মূল রূপরেখা:

  • মেও রোড ও রেড রোড: শহিদ মিনার ও গান্ধী মূর্তির সভার কারণে মেও রোড, রেড রোড এবং ডাফরিন রোডে যানবাহনের গতি বেশ ধীর থাকবে।

  • ক্যাথিড্রাল রোড (ভিক্টোরিয়া ক্রসিং): বিড়লা তারামণ্ডলের সভার জন্য একদিকের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে অন্য দিক দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে দু-মুখী গাড়ি চালানো হচ্ছে।

  • হরিশ মুখার্জি রোড: দুপুর ১টা পর্যন্ত গাড়ি হরিশ মুখার্জি রোড ধরে পার্ক স্ট্রিটের দিকে যাবে এবং দুপুর ১টার পর থেকে রূপান্তর ঘটিয়ে পার্ক স্ট্রিট থেকে হরিশ মুখার্জি রোডের দিকে গাড়ি চলাচলের পথ সুগম রাখা হয়েছে।

  • পার্কিং অঞ্চল: ডোরিনা ক্রসিং ও সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে সমর্থকদের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার জন্য কুইন্সওয়ে, আশুতোষ মুখার্জি রোড এবং গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক আবহাওয়ায় কলকাতা পুলিশ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পূর্ণ শক্তিতে তৎপর রয়েছে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *