কলকাতা, ২১ জুলাই ২০২৬: ঐতিহাসিক ২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে আজ তিলোত্তমায় পালিত হচ্ছে তিনটি পৃথক শহীদ সমাবেশ। তবে সোমবার গভীর রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সভামঞ্চকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো অভূতপূর্ব নাটকীয়তা ও চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। সুসজ্জিত একুশে জুলাইয়ের মূল সভামঞ্চে ভাঙচুর, বিদ্যুতের তার ছিন্ন করা এবং ব্যানার ছেঁড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হামলাকারীদের রুখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে নিয়ে রাতভর সভাস্থলেই অবস্থান করলেন মমতা।
রাতের অন্ধকারে হামলার অভিযোগ: সরাসরি তোপ বিজেপির দিকে
সোমবার সন্ধ্যায় সভাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার পর রাত ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে হঠাৎ চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি বিড়লা তারামণ্ডলে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার প্রধান ঘটনাক্রম ও মমতার তোপ:
-
বাইক বাহিনীর তাণ্ডব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে প্রায় ৬০-৬৫টি বাইকে করে ‘বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা’ এসে হঠাৎ করে মঞ্চে হামলা চালায়।
-
গণতান্ত্রিক অধিকারে আঘাত: তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “এটি কেবল একটি মঞ্চ ভাঙার ঘটনা নয়, এটি সরাসরি রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং আমাদের অগণিত কর্মী-সমর্থকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অনুভূতির ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ।”
-
বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন: সভাস্থলে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মমতা বলেন, “চারিদিকে আমাদের মঞ্চ ভাঙা হয়েছে, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের পোস্টার-ব্যানার সব ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জামিনে বাইরে থাকা এক দাগি দুষ্কৃতীর নেতৃত্বে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে।”
রাত জেগে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নেতৃত্বের মঞ্চ পাহারা
ঘটনার পর আর কোনো ঝুঁকিতে না গিয়ে রাতের অন্ধকারেই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অস্থায়ী আস্তানা গড়েন কালীঘাট তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
-
দফায় দফায় টহল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চেয়ারে বসে গোটা এলাকা তদারকি করেন। তাঁর পাশে চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমীর চক্রবর্তী প্রমুখ।
-
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যের নতুন সরকারের অধীনস্থ পুলিশ তাঁদের কর্মীদেরই সভাস্থলে আসতে বাধা দিচ্ছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আইনি নালিশ ও ভোর রাতের প্রস্তুতি
মঞ্চ ভাঙচুর ও বিদ্যুতের তার কাটার বিষয়ে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লালবাজার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। রাতভর উত্তেজনা ও টানা পাহারার পর ভোরের আলো ফুটতেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করে সভার চচূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এটিই ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রথম একুশে জুলাই সভা। তবে রাতভর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় বসে মঞ্চ পাহারা দেওয়ার এই অভূতপূর্ব দৃশ্য আজ ধর্মতলা ও তারামণ্ডলের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







