best news portal development company in india

“বাঘ নয়, উনি আসলে বাঘরোল!” ডিম চুরির খোঁচা দিয়ে অভিষেককে নজিরবিহীন ব্যঙ্গ ঋতব্রতের

SHARE:

কলকাতা, ১৭ জুলাই ২০২৬: বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস এখন আক্ষরিক অর্থেই খণ্ডবিখণ্ড। একদিকে দলে যখন রোজই মহাধস নামছে, অন্যদিকে তখন ‘আসল তৃণমূল’ তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে কালীঘাটের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। বুধবার এক ফেসবুক লাইভে এসে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আড়াল করতে তাঁকে ‘বাঘ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মমতার সেই মন্তব্যেরই তীব্র বিরোধিতা করে অভিষেককে ‘বাঘরোল’ (মেছোবিড়াল) বলে এক হাত নিলেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়ান ঋতব্রত। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন:

“দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাটা বড়ই অদ্ভুত। একদিকে যেমন সেখান দিয়ে শহরের মেট্রো রেল ঢুকছে, অন্যদিকে তেমনই সুন্দরবনের বাঘ ঘুরছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাচক্রে এই জেলারই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘ’ বলে সম্বোধন করেছেন। আসলে সুন্দরবন এলাকায় বাঘ যেমন আছে, তেমনই বাঘরোল বা ভামবিড়ালও আছে। দিদি মাঝে মাঝেই গুলিয়ে ফেলেন, ওঁর সেই পুরনো প্রবণতা তো রয়েইছে। আমার ধারণা, উনি আদতে বাঘরোল বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুল করে বাঘ বলে ফেলেছেন। তবে হ্যাঁ, আর্থিক তছরুপের ক্ষেত্রে ওঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠছে, তা যদি সত্যিই প্রমাণিত হয়, তবে তো আর্থিক লুঠপাটের দুনিয়ায় ওঁকে বাঘ বলতেই হবে!”

এখানেই থামেননি ঋতব্রত। অতীতে তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে অভিষেকের ওপর হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি চূড়ান্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “আজ পর্যন্ত কোনওদিন শুনিনি যে বাঘ কখনও হাঁস-মুরগির ডিম খায়! কিন্তু বাঘরোল আর ভামবিড়ালকে হামেশাই ডিম চুরি করে খেতে দেখা যায়। এই তথাকথিত ‘বাঘ’, যাঁর গায়ে ইদানিং সামান্য ডিম ছুড়লেই আর ঘর থেকে বেরোতে চান না, তিনি তো বাঘরোল ছাড়া আর কিছুই নন।”

কয়লা পাচার, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখোমুখি হওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতেই মমতা মরিয়া চেষ্টা করছেন বলে দাবি ঋতব্রতের। তাঁর দাবি, এককালের দাপুটে তৃণমূলের এই চরম পতনের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী অভিষেক এবং তাঁর অহংকারী মনোভাব। যদিও দলত্যাগীদের এই দাবি মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা জবাব ছিল— “অভিষেক খারাপ কাজ করেছে, এটা দল ছাড়ার স্রেফ একটা অজুহাত বা বাহানা মাত্র।” সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের মেগা সভার আগে বাঘ বনাম বাঘরোল দ্বন্দ্বে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *