২০২৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর শুরু হওয়া দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরাকের মাটি থেকে সম্পূর্ণভাবে পাততাড়ি গোটাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক মেগা বৈঠকের পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ইরাক থেকে সমস্ত মার্কিন ফৌজ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরাকের সঙ্গে আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন এতটাই মধুর ও স্থিতিশীল স্তরে পৌঁছেছে যে সেখানে আর মার্কিন বুটের প্রয়োজন নেই। তবে বাগদাদের মাটিতে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি না রাখলেও আমেরিকা ভবিষ্যতে ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবরকম সাহায্য করবে এবং আগামী দিনে দুই দেশ মূলত বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সেনা প্রত্যাহার মূলত ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিরই চূড়ান্ত রূপরেখা। ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস (ISIS)-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযান সফলভাবে শেষ হওয়ায় পূর্ব প্রতিশ্রুতি মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চুক্তির সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যারা মূলত ইরাকি ফৌজকে প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছিল। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দেশের অভ্যন্তরে কোনও মার্কিন সেনা না থাকলেও মার্কিন বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সংস্থাগুলি ইরাকে তাদের উন্নয়নমূলক কাজ ও বিনিয়োগ আগের মতোই চালিয়ে যাবে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের পর ইরাক থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বড় সাফল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অবসানের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







