নিউটাউন/বিধাননগর, ১৪ জুলাই ২০২৬: বিধাননগরের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হতেই রাজারহাট-নিউটাউন জুড়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে। সোমবার গভীর রাতে নিউটাউনের ২০ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে একটি সুপরিচিত গেস্ট হাউসে অতর্কিতে হানা দেয় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিডি (Detectives Department), সাইবার ক্রাইম এবং নিউটাউন টেকনো সিটি থানার তদন্তকারীদের একটি বিশেষ দল।
পুলিশের এই মেগা অভিযানে ওই হোটেলের একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, যার পরিমাণ বেশ কয়েক কোটি টাকা বলে প্রাথমিক অনুমান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মাঝরাতেই টাকা গোনার জন্য নিয়ে আসা হয় ব্যাঙ্ক আধিকারিক এবং মেশিন। এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ভিনরাজ্যের (ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা) দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ রহস্যজনক কালো টাকার সঙ্গে সদ্য ধৃত ও বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর যোগসূত্রের জোরালো সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কল সেন্টার জালিয়াতি ও হাওয়ালা যোগ: যেভাবে চলত টাকার খেলা
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান এবং স্থানীয় সূত্র থেকে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
-
আর্থিক জালিয়াতির নিরাপদ আশ্রয়: নিউটাউন ও সল্টলেক এলাকায় একের পর এক বেআইনি কল সেন্টার খুলে ভিনরাজ্য তথা বিদেশের নাগরিকদের কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা করা হতো। এই কল সেন্টার সিন্ডিকেটের নেপথ্যেও দেবরাজের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে অভিযোগ।
-
সিকিউরিটি এজেন্সির গাড়ি ব্যবহার: কল সেন্টার জালিয়াতি ও তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের কালো টাকা পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়াতে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার (Security Agency) গাড়িতে করে ক্যাশ ইন ট্রানজিট হিসেবে ওই গেস্ট হাউসে এনে মজুত করা হতো।
-
টাকায় ধরেছে উইপোকা: পুলিশ ওই ঘরে ঢুকে বস্তা এবং ব্যাগভর্তি টাকার পাশাপাশি যখন নথিপত্র উদ্ধার করতে শুরু করে, তখন দেখা যায় মজুত করা টাকার বেশ কিছু বান্ডিলের একাংশ দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার জেরে উইপোকায় খেয়ে গিয়েছে।
-
হাওয়ালা রুট ও কাউন্সিলর স্ক্যানার: গোয়েন্দা সূত্রের খবর, দেবরাজ চক্রবর্তীর নির্দেশেই রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর এই টাকা বিদেশে পাচার করার জন্য হাওয়ালা (Hawala Channel) রুট ব্যবহার করতেন। সেই চক্রটি ধরতেই এই অতর্কিত হানা।
১৫ দিন রাজ্য ঘুরেও শেষরক্ষা হয়নি দেবরাজের
আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতারি এড়াতে দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোন সুইচ অফ করে বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা হয়ে ছদ্মবেশে বাসে বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের মুরি সংলগ্ন একটি রিসর্ট থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাঁকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা দেবরাজকে জেরা করেই এই বিপুল টাকার হদিস মেলে বলে খবর। নিউটাউনের গেস্ট হাউসে উদ্ধার হওয়া টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকরা এখনই বিস্তারিত মুখ খুলতে না চাইলেও, তল্লাশি অভিযানের ভিডিওতে অফিসারদের ট্রাঙ্কভর্তি ফাইল ও ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা গিয়েছে। এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলরের নাম জড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







